
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বৃহত্তর রংপুর জেলার বিভিন্ন চরে উৎপাদিত ২৬ হাজার টন (সদ্য বালুচরে উৎপাদিত) মিষ্টি কুমড়া নিয়ে বিপাকে চাষিরা। নদীভাঙন কবলিত নিঃস্ব চাষিদের এ কুমড়া দেশের বাইরে রপ্তানির কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মালয়েশিয়া ও চীন। ফলে এ অঞ্চলের চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পাম্পকিন প্লাস নামের এক প্রতিষ্ঠানের আওতায় রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ৭৮৭ হেক্টর ধূ-ধূ বালুচরে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের ১ হাজার ১৭৪ জন চাষি মিষ্টিকুমড়া চাষের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এ জেড এম নজমুল ইসলাম চৌধুরী।
ঘরভর্তি মিষ্টি কুমড়া, থাকার জায়গা নেই। চরাঞ্চলে উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য উচ্চমান সম্পন্ন সবজি বাজারজাত পারছেন না তারা।কৃষকদের দাবি, সরকারসহ নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা তাদের মজুতকৃত সবজি ক্রয় করে ত্রান হিসাবে বিতরণ করেন। এতে একদিনে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন অন্যদিকে কর্মহীন ও হতদরিদ্ররা ত্রান হিসাবে পেয়ে পুষ্টিতে সমৃদ্ধ হবে।

লকডাউনে দেশে স্বাভাবিক যান চলাচল ও মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভাস পরিবর্তনের প্রভাব সর্বত্রই। এ প্রভাব চরাঞ্চলের চাষিদের ঘাম ঝরানো ফসলের ওপর প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিকেজি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু এখন তারা ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পামকিন প্লাস এসব কুমড়া কিনে বিদেশে রপ্তানি করতে না পারায় তারা পড়েছেন বেকায়দায়।
এদিকে দরিদ্র, ভূমিহীন চাষিদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক, বেসরকারি সংস্থা পামকিন প্লাস এর পরিচালক এ জেড এম নজমুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন কবলিত হতদরিদ্র চাষিদের দিয়ে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য সবজি চাষ করানো হয়। আমাদের লক্ষ্য দেশের অন্যান্য নদীভাঙন কবলিত জেলায় সাময়িক ভাবে জেগে উঠা চরে বসবাসরত ভূমিহীন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান ও আয় নিশ্চিত করা। একদিকে তারা যেমন লাভবান এবং স্বাবলম্বী হবেন অন্যদিকে এ সবজি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক আয় সম্ভব।

তিনি আরোও বলেন, এবছর ৭৮৭ হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়েছে।বেশিদিন সংরক্ষণে থাকলেও নষ্ট হয় না। তারপরও অভাবের কারণে অল্পদামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করছেন অনেকেই। অল্প কিছুদিন পর ৫ গুন লাভে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে চাষিরা এই মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষন ও বাজারজাতকরণে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করছেন।করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ৫ থেকে ৭ হাজার টন বিদেশে রপ্তানি করতে পারব, এতে তাদের সুবিধে হবে।
বালুচরে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন ও রপ্তানি বিষয়ে পামকিন প্লাস ডিরেক্টর ফিল্ড অপারেশন মিজানুর রহমান এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, করোনায় আমরা দেশের বাইরে এ সবজি রপ্তানি করতে পারিনি। করোনায় পুষ্টির যোগান হিসেবে অনেকই কিনছেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ত্রাণের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ত্রাণ সামগ্রীতে পুষ্টিগুনে ভরপুর এই মিষ্টি কুমড়াকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে। তারা ১২ হাজার মানুষের মাঝে অন্যান্য উপকরণের সাথে প্রায় ৪০ মে.টন মিষ্টি কুমড়া বিতরণ করেছে। রংপুর, রাজশাহী জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান এই কৃষিবিদ।

পামকিন প্লাসের সহায়তায় এ বছর নারী-পুরুষের যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়া নিজ এলাকায় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে যার মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পও অর্ন্তভূক্ত বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও, চরাঞ্চলে উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য উচ্চমান সম্পন্ন সবজি ও ফসল যেমন স্কোয়াশ, হ্যালোইন পাম্পকিন, লাউ, মরিচ, চেরি টমেটো, লেটুস, রেড বীট, বেবীর্কন, চীনা বাদাম দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এই চাষিদের কাছে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া রয়েছে, যা দেশের এই ক্রান্তিকালে সুষ্ঠু বিপননের মাধ্যমে গরীব চাষির আর্থিক বিনিয়োগের যথাযথ প্রাপ্তির পাশাপাশি ও ত্রাণ গ্রহীতাদের পুষ্টি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত এবং জৈবসার ব্যবহারে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য সবজি বিদেশে রপ্তানী করারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
























