
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ইউক্রেন থেকে ছেড়ে যাওয়া শস্যবাহী জাহাজগুলো এরই মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কৃষি রফতানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে বলেও জানা গেছে। এমন খবরে বিশ্ববাজারে গম ও ভুট্টার দাম কমেছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রতি বুশেল গমের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ৬৪ ডলার হয়। তা ছাড়া প্রতি বুশেল ভুট্টা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬ দশমিক শূন্য ৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। গমের দাম চলতি বছরের মার্চের ১৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।
গত মাসে তুরস্ক ও জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় মস্কো-কিয়েভের মধ্যে শস্য রফতানির চুক্তি সই হয়। এরপর থেকে দাম ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সোমবার পর্যন্ত কৃষি পণ্য বহনকারী মোট ১০টি জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ছেড়েছে। প্রথম জাহাজ পোলারনেট এরই মধ্যে ইস্তাম্বুলের কাছে ডেরিন্স বন্দরে পৌঁছেছে। ১২ হাজার টন ভুট্টা বোঝাই জাহাজটি ৫ আগস্ট প্রথম ইউক্রেন ছেড়ে যায়।
পড়তে পারেন: গম ও ভুট্টা নিয়ে ইউক্রেন ছাড়লো আরও ২ জাহাজ
ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বে প্রধান গম সরবরাহকারী দেশ। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী খাদ্য পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় তুরস্কে দেশ দুটির মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে, যাতে নিরাপদে শস্যবাহী জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ছাড়তে পারে।
এদিকে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর বন্দর থেকে গম ও ভুট্টা নিয়ে দুটি জাহাজ রওয়ানা হয়েছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি থেকে খাদ্যপণ্য নিয়ে এ পর্যন্ত ১৪টি জাহাজ ছেড়ে গেছে। শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলিজ-পতাকাবাহী জাহাজ সোরমোভস্কি ইউক্রেনের চোরনোমর্স্ক বন্দর ছেড়েছে। জাহাজটি তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় টেকিরদাগ প্রদেশে তিন হাজার ৫০ টন গম নিয়ে গেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের পর এটি ছিল ইউক্রেন থেকে যাওয়া গমের প্রথম চালান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে গম রপ্তানির প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসতো ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্শাল দ্বীপ পতাকাবাহী স্টার লরা নামের আরেকটি জাহাজ ৬০ হাজার টন ভুট্টা নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে ইউঝনি শহরের পিভডেনি বন্দর থেকে রওনা হয়েছে।
পড়তে পারেন: দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গম-ভুট্টা উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ
বিশ্ববাজারে ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্যের ঘাটতির কারণে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা গত মাসে জানিয়েছিল জাতিসংঘ। এরপরই তুরস্কের সহযোগিতায় ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য রপ্তানিতে রাজী হয় ইউক্রেন। এরআগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর তিনটি খাদ্যশস্য বোঝাইকারী জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে গেছে। মোট ৫৮ হাজার টন ভুট্টা জাহাজ তিনটিতে বহন করা হচ্ছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের জয়েন্ট কোঅরডিনেশ সেন্টার জানায়, দুটি জাহাজ চর্নমোর্স্কে বন্দর ও একটি জাহাজ ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এ সেন্টার রাশিয়া, ইউক্রেন, তুর্কি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত।
এক টুইট বার্তায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পানামার পতাকাবাহী নাভি স্টার জাহাজটি ইউক্রেন থেকে আয়ারল্যান্ডে যাবে। জাহাজটিতে ৩৩ হাজার টন ভুট্টা রয়েছে। আর দ্বিতীয় জাহাজ মাল্টার পতাকাবাহী রোজেনে ব্রিটেনে যাবে। জাহাজটিতে ১৩ হাজার টন ভুট্টা রয়েছে। আর তৃতীয় জাহাজটি তুরস্কের। জাহাজটিতে ১২ হাজার টন ভুট্টা রয়েছে। এর আগে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবার তিনটি খাদ্যশস্য বোঝাইকারী জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে গিয়েছিল।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























