মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৮
Home > চাষ ব্যবস্থাপনা ও করণীয় > কাউন চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন পদ্ধতি
2097_ACS_1627_19-Poultry_Dairy-Ad

কাউন চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন পদ্ধতি

চাষ ব্যবস্থাপনা ও করণীয় ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গরীবদের খাদ্য হিসেবে পরিচিত পাওয়া ছোট দানা বিশিষ্ট কাউন শস্যটি চাষ করার এখনই সময়।  স্বল্প খরচে এ ফসল চাষবাদা করে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কাউন ফসল চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন নিয়ে নিচে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

উপযুক্ত জমি মাটি: প্রায় সব ধরনের মাটিতে কাউনের চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেলে দোঁআশ মাটিতে এর ফলন ভাল হয়।

জাত পরিচিতি: কাউনের স্থানীয় জাত ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘তিতাস’ নামের একটি জাত আছে। কাউনের এ জাতটি শিবনগর নামে ১৯৮০ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং দেশী বিদেশী জাতের সাথে তুলনামূলক মূল্যায়ণের পর ১৯৮৯ সালে তিতাস নামে অনুমোদন করা হয়।

তিতাস জাত উচ্চ ফলনশীল, আগাম রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। তিতাস জাতের গাছ মাঝারি লম্বা, পাতা সবুজ , কান্ড শক্ত। গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না। শীষ বেশ লম্বা, মোটা এবং রেশমী। বীজ মাঝারি আকারের এবং ঘিয়ে রংয়ের। হাজার বীজের ওজন ২.৩-২.৫ গ্রাম ।

স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায় ৩০-৩৫% বেশী । জাতটি রবি মৌসুমে ১০৫-১১৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনে পাকে । তিতাস জাতটি গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন । রবি মৌসুমে তিতাসের ফলন হেক্টর প্রতি ২.০-২.৫ টন। খরিফ মৌসুমে এর ফলন একটু কম হয়।

বপনের সময়: দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারী) পর্যন্ত বীজ বোনা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বোনা হয়।

বীজের হার: কাউনের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বোনা যায়। ছিটিয়ে বুনলে হেক্টর প্রতি ১০ কেজি এবং সারিতে বুনলে ৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

 বীজ সারিতে বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সেমি  রাখতে হবে। চারা গজানোর পর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সারিতে চারার দূরত্ব ৬-৮ সেমি রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা: কাউন চাষে সচরাচর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় না। তবে অনুর্বর জমিতে হেক্টর প্রতি নিম্নরূপ সার প্রয়োগ করলে ফলন বেশী হয়।

সারের নাম     সারের পরিমান/শতকে    সারের পরিমান / হেক্টর  

ইউরিয়া         ৩৮৫-৪২৫ গ্রাম          ৯৫-১০৫ কেজি

টি এসপি        ২৮৩-৩০৪ গ্রাম          ৭০-৭৫   কেজি

এমওপি         ১২১-১৬২ গ্রাম            ৩০-৪০   কেজি

সার প্রয়োগ পদ্ধতি: সেচ বিহীন চাষে সবটুকু সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। সেচের ব্যবস্থা থাকলে শেষ চাষের সময় অর্ধেক ইউরিয়া এবং সবটুকু টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া  বীজ বপনের ৩৫-৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ আগাছা ব্যবস্থাপনা: কাউন একটি খরা সহিষ্ণু ফসল। তবে রবি মৌসুমে খরা দেখা দিলে ১-২ টি হালকা সেচের ব্যবস্থা করলে ফলন বেশী হয়। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী দিয়ে দমন করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ: কাউনের শীষ খড়ের রং ধারন করলে এবং বীজ দাঁতে কাটার পর কট্‌ করে শব্দ হলে বুঝতে হবে  কাটার উপযুক্ত সময় হয়েছে। সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

About এগ্রিকেয়ার২৪.কম

Check Also

চলতি সময়ে আখ চাষে

চলতি সময়ে আখ চাষে করণীয় ও চারা উৎপাদনের কৌশল

ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি সময়ে আখ চাষে করণীয় ও চারা উৎপাদনের কৌশল নিচে তুলে ধরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © এগ্রিকেয়ার টোয়েন্টিফোর.কম (২০১৭-২০১৯)
সম্পাদক: কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক: মো. আবু খালিদ।
যোগাযোগ: ২৩/৬ আইওনিক প্রাইম, রোড ২, বনানী, ঢাকা ১২১৩।
Email: agricarenews@gmail.com, Mobile Number: 01831438457, 01717622842