বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৫১
Home > প্রাণী > গরু ও মহিষের গলাফুলা রোগ প্রতিরোধের কৌশল, লক্ষণ ও প্রতিকার
2097_ACS_1627_19-Poultry_Dairy-Ad
গরু ও মহিষের গলাফুলা

গরু ও মহিষের গলাফুলা রোগ প্রতিরোধের কৌশল, লক্ষণ ও প্রতিকার

প্রাণি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গলাফুলা একটি তীব্র প্রকৃতির রোগ যা গরু এবং মহিষকে আক্রান্ত করে। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি। আসুন জেনে নেয়া যাক গরু ও মহিষের গলাফুলা রোগ প্রতিরোধের কৌশল, লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা Pasteurella multocida দ্বারা সংঘটিত হয়। গলাফুলা (hemorrhagic septicemia) এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়।

পশুর শরীরে স্বাভাবিক অবস্থায় এ রোগের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে যদি পশু ধকল যেমন ঠাণ্ডা, অধিক গরম, ভ্রমণজনিত দুর্বলতা ইত্যাদির সম্মুখীন হয় তখনই এ রোগ বেশি দেখা দেয়। গলাফুলা রোগের প্রচলিত নাম ব্যাংগা, ঘটু, গলগটু, গলবেরা ইত্যাদি।

রোগের লক্ষণ: এ রোগ অতি তীব্র ও তীব্র এ দুইভাবে হতে পারে। অতি তীব্র প্রকৃতির রোগে হঠাৎ জ্বর হয়ে মুখ ও নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে।

পশু অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে ও খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে। তীব্র প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত পশু ২৪ ঘন্টার অধিক বেঁচে থাকে। এ সময় পশুর এডিমা দেখা দেয় যা প্রথমে গলার নিচে, পরে চোয়াল, তলপেট এবং নাক, মুখ, মাথা ও কানের অংশে বিস্তৃত হয়।

গলায় স্ফীতি থাকলে গলার ভেতর ঘড় ঘড় শব্দ হয়, যা অনেক সময় দূর থেকে শোনা যায়। প্রদাহযুক্ত ফোলা স্থানে ব্যথা থাকে এবং হাত দিলে গরম ও শক্ত অনুভূত হয়। মুচ দিয়ে ছিদ্র করলে উক্ত স্থান হতে হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ বের হয়ে আসে।

অনেক সময় কাশি হয় এবং চোখে পিচুটি দেখা যায়। নাক দিয়ে ঘন সাদা শ্লেষ্মা পড়তে দেখা যায়। সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আক্রান্ত পশু মারা যায়।

চিকিৎসা প্রতিকার: আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় বিলম্ব হলে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ রোগের চিকিৎসায় Ampicillin, Tetracycline, Erythromycin, Sulphonamide জাতীয় ইনজেকশন গভীর মাংসে দিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ রোগ উচ্ছেদ করা অসম্ভব কারণ এ রোগের জীবাণু স্বাভাবিক অবস্থায় পশুর দেহে থাকে। তবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

রোগাক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে সুস্থ পশুকে টিকা দানের ব্যবস্থা করতে হবে। মড়কের সময় পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পশুর পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

গরু ও মহিষের গলাফুলা রোগ প্রতিরোধের কৌশল, লক্ষণ ও প্রতিকার সংবাদটির তথ্য কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে নেয়া হয়েছে।

About এগ্রিকেয়ার২৪.কম

Check Also

গবাদিপশুর এসিডিটি জনিত রোগ

গবাদিপশুর এসিডিটি/গ্যাস্ট্রিক জনিত রোগ প্রতিরোধ, লক্ষণ ও প্রতিকার

প্রাণি স্বাস্থ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাধারণত আমরা শুনে থাকি মানুষের এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কথা। কিন্তু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © এগ্রিকেয়ার টোয়েন্টিফোর.কম (২০১৭-২০১৯)
সম্পাদক: কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক: মো. আবু খালিদ।
যোগাযোগ: চন্দ্রমণি ভিলা, ১৪৯/৪/ খ, দক্ষিণপীরের বাগ, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।
Email: agricarenews@gmail.com, Mobile Number: 01717622842