
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চীনে মাংস রফতানিতে কোনো সমস্যা নেই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের। দেশ দুটির মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্থানীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশ করা হলেও আপাতত সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ দুটি।
পাশাপাশি বর্তমানে দেশ দুটি থেকে চীনে মাংসের চালানও বরাবরের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হচ্ছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের গণমাধ্যমে মাংস আমদানি নিষেধাজ্ঞার সংবাদ প্রকাশিত হলেও এ সম্পর্কিত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেয়নি দেশটির সরকার।
পড়তে পারেন: ভারত থেকে চলছে মাংস আমদানি, মার খাচ্ছে খামারিরা
দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ সংবাদপত্র জানায়, চীনের একটি মিডিয়া আউটলেটে বলা হয়, গবাদিপশুর পা এবং মুখের রোগের কারণে দেশ দুটি থেকে মাংস আমদানি স্থগিত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান কৃষি বিভাগের এক মুখপাত্র ই-মেইল বিবৃতিতে জানান, আমরা গুজব সম্পর্কে সচেতন রয়েছি। এরই মধ্যে বেইজিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস চীনের শুল্ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি চীন।
এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের মার্কেট এক্সেস ডিরেক্টর স্টিভ আইন্সওয়ার্থ বলেন, চীনে মাংস রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গবাদিপশুর পা এবং মুখের রোগ অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তবে রোগটি মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়।
পড়তে পারেন: বাংলাদেশ মাংস আমদানি না করায় বিপাকে ভারত
এদিকে ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মহিষের হিমায়িত মাংসের আমদানি বন্ধ চায় দেশের প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এনিমেল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আহ্কাব)।
সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশ থেকে হিমায়িত মহিষের মাংস আমদানির প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছে। আজ রোববার (৩১ জুলাই) আহকাব সভাপতি ডা. এম নজরুল ইসলাম ও মহাসচিব মোহাম্মদ আফতাব আলম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপির মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, দেশের মৌলিক কৃষিজ খাতের পণ্য সামগ্রীর আমদানি নির্ভরতা আমাদের সামগ্রীক অর্থনীতি ও ভোক্তাদের প্রয়োজনের মুহুর্তে চরম বিপদে ফেলে। নিজ দেশের খাদ্যনিরাপত্তার অজুহাতে রপ্তানিকারক দেশ সমূহ কখনোই আমাদের জনগণের পাশে দাড়ায় না।
পড়তে পারেন: মাছ মাংস দুধ ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে সরকার
সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প একটি বিকাশমান শিল্প। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আজঅব্দি এ শিল্প যতটা প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা ছিল তা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র বিদেশী গরুর অবাধ বাণিজ্যের কারণে। ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বাংলাদেশের একটি মৌলিক শিল্প। মৌলিক শিল্পে বিদেশী আমদানি নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে গ্রাম-বাংলার কোটি কোটি পরিবার ও খামারীর জীবন-জীবিকা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























