ড. শামসুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ড. শামসুন নাহার বেগম। এছাড়া জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।

আজ সোমবার (২ আগষ্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখার সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: কামরুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেতে যাচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিজ্ঞানী। আগামী সেপ্টেম্বরে আইএইএর সাধারণ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিনা মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইতিমধ্যে জাতিসংঘের আইএইএ এর পক্ষ থেকে বিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরও কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক নজরে বিনা: ঢাকায় তদানীন্তন আণবিক শক্তি কমিশনের একটি. ছোট্ট রেডিও-ট্রেসার ল্যাবরেটরিতে (RAGENE) এর প্রথম যাত্রা শুরু ১৯৬১ তে, যাকে কেন্দ্র করে ১৯৭২-এর জুলাইয়ে একটি অধিকতর সংগঠিত ব্যবস্থাপনায় ঢাকার বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের “পরমাণু কৃষি ইনস্টিটিউট (ইনা)” গড়ে ওঠে।

এটি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয় ১৯৭৫ সালে। ইনা ১৯৮২ সালে “একটি স্বতন্ত্র কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা” লাভ করে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় ন্যস্ত হয়।

১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশ নং-২ জারি করে এটিকে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। বিনা অধ্যাদেশ ১৯৯৬ সালে অ্যাক্ট নং-৪ মূলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক সংশোধিত হয়ে আইনে পরিণত হয়।

দশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনা’র গবেষণা কাজ পরিচালিত হয়, সেগুলো হলোঃ (১) কৃত্রিম মিউটেশনের মাধ্যমে উন্নত শস্যজাত, (২) বায়োটেকনোলজি, (৩) মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা ও জীবাণুসার, (৪) সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, (৫) বালাই ব্যবস্থাপনা, (৬) শস্য উৎপাদনশীলতার শারীরতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, (৭) ফসল ব্যবস্থাপনা, (৮) উদ্যান ফসলের উন্নয়ন, (৯) প্রযুক্তির হস্তান্তর ও প্রভাব মূল্যায়ন, এবং (১০) আর্থ-সামাজিক গবেষণা।

পরমাণু শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিনা এযাবৎ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মোট ১১২টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে এবং দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলছে। এছাড়াও, বিনা সাফল্যের সাথে উদ্ভাবন করেছে শিম, ডাল ও তেল জাতীয় ৮ টি ফসলের জন্য জীবাণুসার, যা মাটির গুণাগুণ রক্ষাসহ ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচেছ।

জাতিসংঘের উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ড. শামসুন নাহার বেগম এ সংবাদ দেশের কৃষির জন্যে অনেক বড় সম্মানের। অভিনন্দন সবাইকে।