নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ডিমের সংকট দেখিয়ে ডিম আমদানি করতে চায় একটি সিন্ডিকেট। প্রান্তিক খামারীরা বলছে, টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে ডিম আমদানির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

দেশের প্রান্তিক খামারীদের টিকিয়ে রাখতে এই চক্রটিকে ডিম আমদানির অনুমোদন না দেওয়াসহ সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ)।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন ডিলার খামারিদের সংগঠন বিপিএর সভাপতি সুমন হাওলাদার দাবি জানান।

দাবি গুলো হচ্ছে-অসাধু সিন্ডিকেট থেকে পোল্ট্রি সেক্টরকে রক্ষা করতে হবে। ডিম আমদানির পায়তারা যারা করবেন তাদের অনুমতি দেয়া যাবে না। খাদ্যের উপর সরকারি ভর্তুকি সহ অন্যান্য ফেসিলিটি বাড়িয়ে মুল্য কমাতে হবে।পোল্ট্রি নীতিমালা প্রনয়নসহ পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে উৎপাদন খরচের সাথে সমন্বয় করে ন্যায্য মুল্য নির্ধারণ করতে হবে। সকল খামারিদের নিবন্ধনের আওতায় আনা। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি কমিয়ে আনতে হবে। সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকদের প্রনোদনার ব্যবস্থা করা যাতে তারা ঘুরে দাড়াতে পারেন।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

ভারত থেকে ৫১ কোটি ডিম আমদানি করতে চান আমদানিকারকেরা

ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হবে না; মৎস্য-প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আজ সোমবারের (২১ নভেম্বর) পোল্ট্রির ডিম মুরগি ও বাচ্চার পাইকারি দাম

সুমন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে। কিন্তু দেশ বিরোধী কিছু আমদানি কারক বিদেশ থেকে ডিম আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। সরকার অনুমতি দিলেই তারা আমদানি করবেন। যা পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের আরেকটি ষড়যন্ত্র বলেই আমরা মনে করি।

বাংলাদেশে ডিমের চাহিদা সাড়ে চার কোটি। আমাদের ডিম উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি। তারপরেও যারা ডিম সংকট বলছেন তাদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ধান্দাবাজি। বাজারে চাহিদা কম থাকায় আমাদের দেশে খামারীরা ডিম ও মুরগী বিক্রি করতে পারছে না। তারপরেও যারা ডিম ও মুরগির সংকটের কথা বলছেন তারা দেশের প্রান্তিক খামারীদের ধ্বংস করে সিন্ডিকেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে চায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন ডিম আমদানি বন্ধ করুন প্রান্তিক খামারিদের রক্ষা করুন।

এদিকে চুক্তিবদ্ধ খামারের নামে প্রান্তিক খামারীর কে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প ও চেক নিয়ে প্রতারণা করে গুটিকয়েক কর্পোরেট কোম্পনীগুলো বছরে ১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে বলেও দাবি জানান খামারীরা। চুক্তিবদ্ধ খামার করতে না চাইলে খামারী এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে কর্পোরেট কোম্পানীগণ চেক ডিজেনার মামলা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ