নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের পাঁচটি স্টেশনে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আগামী ২৪ ঘন্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতলে হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি আরো জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট সুনামগঞ্জ নেত্রকোনা জেলার কতিপয় স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পড়তে পারেন: আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সুরমা নদীর সিলেটের কানাইঘাট এলাকার পানি ৬৪ সে.মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে ও কুশিয়ারা নদীর অমলশীদে ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিলেটের শেওলা কুশিয়ারা নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; সুনামগঞ্জের দিরাই নদীর পানি ০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কলমাকান্দা নেত্রকোনা সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বজায় থাকাই বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনা দুর্গাপুরের ৬৪ শ্রীমঙ্গল ৫৩ মিলিমিটার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬২ মিলিমিটার এলাকায় ৫০ মিলিমিটার এবং লামায় এলাকার ৫৪ সেইসাথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার এলাকায় ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিকিম অরুণাচল আসাম মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মেঘালয়ের ৫৮ মিলিমিটার এবং ত্রিপুরার আগরতলায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এসব বৃষ্টিপাত বন্যা পরিস্থিতি আরও নাজেহাল করে তুলতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত আছে। তবে নতুন করে জেলার নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুরসহ তিনটি উপজেলায় পানি বাড়ছে। এসব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সোমবার সকাল নয়টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৪৮ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচে। গত দুই দিনে সুরমা নদীর পানি কমেছে ৩২ সেন্টিমিটার।

বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় ও প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলায় জেলার প্রায় ৩০০ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। অভিভাবকেরাই শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। জেলার ছাতক উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে থাকা কৈতক ২০ শয্যার হাসপাতাল ভবন ও সামনের রাস্তা থেকে বন্যার পানি নেমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গত দুই দিন ভারী বৃষ্টি হয়নি। উজানের পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। এতে সুরমা নদীর পানি কমছে। তবে জেলায় উজানের পানি নামায় নিচু এলাকা জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় পানি বাড়ছে।

এই তিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল টিম, ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছেন।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ