নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: দেশের ১ কোটি এক লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও বিক্রি হচ্ছে টিসিবি পণ্য।

ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হলেও গতকাল সোমবার (১ আগস্ট) থেকে রাজশাহীতে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। রাজশাহী কিছু কিছু এলাকায় প্যাকেজের সাথে ভারতীয় পচা পেঁয়াজ বাধ্যতামূলক করেছে টিসিবি, ফলে চটেছে ক্রেতা।

এর আগে, গত সোমবার (১ আগস্ট) টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবির বলেন, সারা দেশে ১ কোটি ১ লাখ পরিবার পাবে টিসিবির এ পণ্য। এর মধ্যে ঢাকায় পাবে ১৩ লাখ পরিবার। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলাতে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে। এই ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য বিতরণ শুরু হলেও বেঁধেছে পেঁয়োজের বেলায়।

পড়তে পারেন: ডলারের সংকটে বাড়লো ভারতীয় পেঁয়াজের দাম

রাজশাহী টিসিবির আঞ্চলিক পরিচালক রবিউল মোর্শেদ এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, “ সব জায়গায় পচা পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে না। প্যাকেজে যেসব পণ্য আছে সবগুলো নিতে হবে। পচা পেঁয়াজ থাকলে সেটিও নিতে হবে। আমাদের কিছু করার নেই। প্যাকেজসহ বিক্রি। বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।”

গত রবিবার (৩১ জুলাই) টিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে চলবে টিসিবির এ কার্যক্রম। নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবার ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ) পাবে।

এ বিক্রয় কার্যক্রম ডিলারের দোকান/নির্ধারিত স্থায়ী স্থাপনা থেকে সিটি করপোরেশন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ও তাদের নির্ধারিত তারিখ ও সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে।

এ দফায় কার্ডধারী ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৬৫ টাকা ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি হবে শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা ও টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে।

মূলত টিসিবি জনগণের কষ্ট লাঘব করতে হাত বাড়ালেও কেন পচা জিনিস হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, ভালো জিনিসের সাথে পচা জিনিস টাকা দিয়ে কেন কিনতে হবে। একই দামের দেশী পেঁয়াজ না দিয়ে ভারতীয় পচা পেঁয়াজ কেন দিচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ