
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে জিরা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে। কমলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) এ বন্দর দিয়ে ১৩৭ টন জিরা আমদানি হয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী বলছেন, দেশীয় বাজারে জিরার চাহিদা কমে যাওয়ায় আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এদিকে জিরা আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্বও কমেছে বলে জানান বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গিয়েছে, ভারত থেকে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার জিরা আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় জিরা আমদানি হয়েছিল ৬৩৫ টন। আমদানীকৃত জিরার মূল্য ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। যেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
পড়তে পারেন: এলাচ ২৫০০, জিরার কেজিতে বাড়লো ২০ টাকা
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলাপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি দেশীয় বাজারে আমদানীকৃত জিরার চাহিদা কম। আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হঠাৎ করে ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জিরাসহ অন্যান্য মসলাপণ্য আমদানি কমেছে। গতকাল ভোমরা স্থলবন্দরে জিরা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৩৯০-৪০০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৩১০-৩২০ কেজি দরে।
আবু হাসান আরো জানান, প্রতি মাসে গড়ে ১৪০-১৫০ টন জিরা আমদানি করত তার প্রতিষ্ঠান। কিন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে তার প্রতিষ্ঠানে জিরা আমদানি হয়েছে ৪০-৫০ টন।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী ও আড়তদার জহুরুল ইসলাম জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় জিরার চাহিদাও কমেছে। এক মাস আগেও আমদানীকৃত জিরা পাইকারি ক্রয় করেছেন করেছে কেজিপ্রতি ৩১০-৩২০ টাকা দরে। এখন কিনতে হচ্ছে ৪০০-৪১০ টাকা দরে। ফলে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৪০-৪৫০ টাকা দরে। এ কারণে দেশীয় বাজারে চাহিদা কমে গেছে।
পড়তে পারেন: এবার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে মসলার দাম
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের কাজি দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, উচ্চ শুল্কযুক্ত মসলাপণ্যের মধ্যে এ বন্দর দিয়ে কেবল জিরা আমদানি হয়। কিন্তু জিরার পাশাপাশি এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গসহ অন্যান্য গরম মসলা আমদানির আমদানির সুযোগ দিলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন। এছাড়া দামও কমে আসবে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্ব থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছর জিরা আমদানি কমেছে। ফলে আমদানীকৃত এ পণ্যটিতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমেছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























