করোনা ভ্যকাসিন। ছবি: এএফপি

ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গত ১১ অগস্ট করোনার টিকা ‘স্পুটনিক ভি’ আবিষ্কারের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ায় প্রতিষেধকটি আবিষ্কার করেছে গামালেয়া সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডিমিয়োলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি এবং রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতের সাথে রাশিয়া কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সিইও কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছিলেন, কোভিডের প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য রাশিয়া ভারতের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে আগ্রহী। এ-ও জানান, স্পুটনিক-ভি তৈরিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের হাতই ধরতে চায় রাশিয়া।

রাশিয়ার সম্ভাব্য ভ্যাকসিন এর ভারতে উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হলো দুই দেশের মধ্যে। যদিও গোড়া থেকেই ভারতের বাজার ধরার ইঙ্গিত দিয়ে এসেছে রাশিয়া।

রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাই কুদাশেভ নিজে ভারত সরকারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কে বিজয়রাঘবন, জৈবপ্রযুক্তি দফতরের সচিব রাণু স্বরূপ এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিজি বলরাম ভার্গবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তার মতে, প্রচুর পরিমাণে প্রতিষেধক তৈরি তথা ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার ধরার লক্ষ্যে সিরাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন রুশ অফিসারেরা। এশিয়ার পাশাপাশি লাতিন আমেরিকাতেও নিজেদের টিকা পৌঁছে দিতে আগ্রহী পুতিন।

আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে রুশ টিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানান, এ নিয়ে দুই দেশ আলোচনা চালাচ্ছে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা এখনও আসেনি।

রাশিয়া প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি করলেও আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ, দ্রুত প্রতিষেধক বাজারে ছাড়তে গিয়ে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা কার্যত এড়িয়ে গিয়েছে তারা। সেই কারণে ওই প্রতিষেধক নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সেই কারণেই কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে ওই টিকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে মস্কোর কাছে। তার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।