নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুকের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে একটি পোল্ট্রি খামার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের দীনবন্ধু সেনের খামারে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার দলবলের ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যানকে আটকে রাখলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের দয়াময় সেনের ছেলে দীনবন্ধু সেন কৃষি ব্যাংক জুড়ী শাখা থেকে ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে এবং আরও ২০ লাখ টাকা দেনা করে আড়াই হাজার মোরগি নিয়ে একটি লেয়ার পোল্ট্রি খামার চালু করেন। এখন অবধি লাভের মুখ দেখেননি দীনবন্ধু সেন। লোকসান গুনতে গুনতে সব পুঁজি হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব তিনি। কিন্তু দীনবন্ধু সেন হাল ছাড়েননি। এরই মধ্যে এলাকার একটি পক্ষ এই ফার্মটি সরিয়ে নেয়ার দাবি জানায়। অন্য পক্ষ এটি রাখার পক্ষে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

এ অবস্থায় আইনের তোয়াক্কা না করে শুক্রবার রাতে জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুকের নেতৃত্বে ওই পোল্ট্রি খামারটিতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে । এতে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজান মিয়াসহ বেশ কয়েকজন আহত হলে এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুকে আটকে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর খবর পেয়ে জুড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ও ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরে জনতার হাত থেকে পুলিশ উপজেলা চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে বাড়ী পৌছে দেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকারি এম্বুলেন্স দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

পোল্ট্রি খামারের মালিক দীনবন্ধু সেন বলেন, হঠাৎ খামারে ভাঙচুর করতে দেখে আমি দৌড়ে আসি। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আমার বুকে পিস্তল ধরেন এবং আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন মিলে আমার খামারে ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে জুড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, অনেক দিন ধরে এলাকার কিছু মানুষ এই খামারটি সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। দ্বীনবন্ধু যেহেতু লোন নিয়ে এই খামার চালাচ্ছেন তিনিও আদালতের দ্বারস্থ হন। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান গত রাতে গিয়ে খামার সরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু এত বড় খামার চাইলেইতো সরিয়ে নেয়া যায় না। পরে অতি উৎসাহী হয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন হামলা করেন। এই ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি বলেও ওসি জানান।

রাতের আঁধারে পোল্ট্রি খামার ভাঙচুর করলেন চেয়ারম্যান এমন কাজ করা মোটেও ঠিক হয় নি বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বিচারও দাবি করেছেন খামারিরা।