ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বোরো ধানের বীজ তলাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে শৈত্য প্রবাহ হুমকি স্বরুপ।শৈত্য প্রবাহে বোরো ধানের চারা হলুদাভ হয়ে ক্রমশ মারা যায়। শীতের প্রকোপে চারা পোড়া বা ঝলসানোর কারণে চারা মারা যেতে পারে। এছাড়াও শৈত্যপ্রবাহের কারণে সরিষা আলুসহ ফল গাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

তাই আসুন শৈত্য প্রবাহে বোরা ধানের বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল রক্ষার্থে করণীয় দিকসমূহ জেনে নিই:

করণীয় দিকসমূহ:
১.শৈত্য প্রবাহের সময় বোরো ধানের চারার বৃদ্ধিতে নিম্ন তাপমাত্রায় প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে।সন্ধ্যার পর তা সরিয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ধানের বীজতলা ও আলুর ক্ষতি নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

২. রাতের বেলা বীজতলায় ৩-৫ সেন্টিমিটার সেচ দিয়ে খুব ভোরে পানি সরিয়ে দিলে চারার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। এক্ষেত্রে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করাই ভালো।

৩.প্রতিদিন সকালে বীজতলায় চারার উপর জমাকৃত পানি হালকাভাবে দড়ি দিয়ে টেনে ঝরিয়ে দিতে হবে।

৪.শৈত্য প্রবাহের সময় বোরো ধানের বীজতলায় থ্রিপসের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। আক্রমণের মাত্র ২৫% এর  বেশি হলে এক লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার ম্যালাথিয়ন মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
৫. চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক বীজতলায় ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

৬.ইউরিয়া সার প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে প্রতিশতক বীজ তলায় ৪০০ গ্রাম হারে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।

৭.শৈত্য প্রবাহের সময় সরিষার আল্টারনারিয়া ব্লাইট রোগ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রোভলাল ৫ ডব্লিউপি মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার স্প্রে করতে হবে।

৮. শৈত্য প্রবাহসহ তীব্র কুয়াশায় আলুর নাবী ধ্বস রোগ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

আরও পড়ুন: বোরো ধানে সেচের মাধ্যমে আগাছা ও মাকড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

৯. ঠান্ডা জনিত ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য ফল গাছে নিয়মিত সেচ প্রদান করুন।ছোট ফল গাছ ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য খড়/ পলিথিনশীট/ চটের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

শৈত্য প্রবাহে বোরা ধানের বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল রক্ষার্থে করণীয় শিরোনামে লেখাটির তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাইট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার / এমবি