
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: লালমনিরহাট সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
গতকাল সোমবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে আকাশে মেঘ দেখা দেয়। কিছু সময় পরেই শুরু হয় বজ্রপাত। মেঘের গর্জনের সঙ্গে বৃষ্টির পাশাপাশি শুরু হয় শিলাবৃষ্টি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, জেলার কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার কিছু এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুধুমাত্র বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার এলাকার কৃষক আল মামুন বলেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে গম, আলু ও সবজি ক্ষেতের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পড়তে পারেন: বিকেলে কয়েক অঞ্চলে শুরু হতে পারে ভারী বর্ষণ, শিলাবৃষ্টি
জানা গেছে, লালমনিহাটের পাঁচ উপজেলায় সোমবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। সারাদিন ছিল কনকনে শীত আর হিমেল হওয়া। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেঁটেখাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েন। অনেকে ঘর থেকে বেরুতে পারেননি।
এদিকে লালমনিরহাটে সদরের বড়বাড়ি, আদিতমারীর কমলাবাড়ি ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক শিলা ও বৃষ্টিপাত হয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, গম, ভুট্টা, ইরি ধান, তামাক ও আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সদর উপজেলার রাজপর ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এমন শিলাবৃষ্টি জীবনে দেখি নাই বাহে আলু, পেঁয়াজ, তামাকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ বিঘার তামাক আর আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টির কারণে তামাকের পাতাগুলো ফুটো হয়ে গেছে। তাই এবার তামাকের ক্ষতি কোনভাবেই পোশানো সম্ভব নয়।’
পড়তে পারেন: বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষে নারী উদ্যোক্তার সাফল্য
কালীগঞ্জ উপজেলার চলবালা ইউনিয়নের কৃষক শাহজাহান আলী জানান, ‘জমিতে আলু লাগাইছি- এই শিলাবৃষ্টিতে আলুর ক্ষতি হয়েছে। আলু আবাদে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, এই শিলাবৃষ্টির কারণে আলুতে এখন সে টাকা উঠবে না। সব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাবে।’
আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক বাহার উদ্দিন জানান, ‘বিকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছিল। সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। এর একটু পরেই শুরু হয় প্রচুর শিলাবৃষ্টি। এতে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
লালমনিরহাট জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ জানান, সদর উপজেলায় ও কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বেশকিছু স্থানে প্রচুর শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, তামাকসহ কৃষি ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখন বলা সম্ভব নয়।
পড়তে পারেন: মাছ চাষে কোটিপতি ফরহাদ, চলতি বছরে ৭০ লাখ!
কালীগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে শিলাবৃষ্টি বয়ে গেছে। এতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ কৃষকের ফসল ক্ষেতে গিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা হবে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আজম বলেন, আমার ব্লক এলাকায় শিলাবৃষ্টি তেমন হয়নি। ফলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তাদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং বোরো ধান ও ভূট্টা ক্ষেতের ব্যাপক উপকার হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পেলে সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে পারবো।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























