হাওর অঞ্চলে জরুরিভিত্তিতে ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: করোনাভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব ঘুচাতে হাওর অঞ্চলে জরুরিভিত্তিতে ধান কাটার যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রুত ওই এলাকার কৃষকেরা ধান কাটতে পারবেন।

হাওর অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ সাত জেলা। এসব জেলার ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারবেস্টর ও ১৩৭টি রিপার সরবরাহের বরাদ্দ প্রদান করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে হাওরাঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন হারবেস্টর ও ১০৫৬টি রিপার সচল রয়েছে। এছাড়াও, পুরনো মেরামতযোগ্য ২২০টি কম্বাইন হারবেস্টর ও ৪৮৭টি রিপার অতিদ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২০) সকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় কৃষি যন্ত্রপাতিতে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

সভায় কৃষি সচিব বলেন, ‘হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য আমরা জরুরিভিত্তিতে এসব যন্ত্রপাতি বরাদ্দ করেছি। এর ফলে এ অঞ্চলের ধান কাটায় আর কোন সমস্যা হবে না’।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিপালক ড. মোঃ আবদুল মুঈদ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় ৫০% ভর্তুকিতে ১০০ (একশ) কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম চলছে।

আগামী জুনের মধ্যে সারাদেশে ৬৪টি জেলায় তিন ক্যাটাগরির কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন: কম্বাইন হারবেস্টর, রিপার এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সরবরাহ করা হবে। এসব আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে, ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং ফসলের অপচয় রোধ হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে কৃষি অধিকতর লাভবান হবে এবং কৃষির বাণিজ্যিকিকরণ ঘটবে।

হাওর অঞ্চলে জরুরিভিত্তিতে ধান কাটার যন্ত্রপাতি বরাদ্দ শিরোনামের সংবাদটির তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার মো: কামরুল ইসলাম ভূইয়া নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: নির্ধারিত সময়ে হাওরে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ফসলের বড় ক্ষতির শঙ্কা