
জয়পুরহাট প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: জয়পুরহাটের কৃষকরা আলু চাষের জন্য পরিচিত। এখানে প্রচুর পরিমাণ আলু চাষ হয়। তবে এবছর আলু ছেড়ে কিংবা স্থগিত রেখে সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। সরিষার ভালো দামের গুঞ্জনে আশা দেখছেন লাভবান হওয়ার।
বাম্পার ফলন, পরিশ্রম আর কম খরচ কারণে দিন দিন সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হয়েছে সরিষা। অন্যদিকে আলু উৎপাদনে অধিক খরচ এবং আলুর দাম কম হওয়ায় এমনটি দাবি করেছে এ এলাকার কৃষকরা।
সদর উপজেলার কৃষক আফজাল, নজরুল, মোস্তফাসহ একাধিক কৃষক জানান, ইদানীং ধানচাষ করে লোকসানে পড়ার কারণে তারা আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছে। এ ছাড়াও সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয় এবং সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল চাষ হয়।
জেলার কয়েকটি মাঠে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য অগ্রহায়ণের হিম-শীতল বাতাসে দোল খাচ্ছে। শীতের সকালে সরিষার হলুদ ফুলের ম-ম গন্ধে ভিন্নরকম অনুভূতি তৈরি করছে। গুণগুণ শব্দে ফসলের ক্ষেতে ক্ষেতে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ যেন কোনো এক হলুদ রাজ্য। মৌমাছির গুঞ্জনে এ রাজ্যে মন হয়ে ওঠে চলেছে চনমনে।
এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:
তিতাসে ৪৪৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ
গোদাগাড়ীর মাঠ জুড়ে দ্বিগুন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ
খরচ কম, লাভ বেশি সরিষার আবাদ বৃদ্ধি
ক্ষেতলাল উপজেলার তোফাজ্জল জানান, সরিষায় কম খরচ, কম সময়, কম ঝামেলায় ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা ঝুঁকে পড়ছে। প্রতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষা চাষ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, গত বছর ৪৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করার পরে এবার চাষ করা হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমিতে। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে কৃষকের খরচ হবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ। বর্তমানে মান ভেদে প্রতি মণ সরিষা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়।
উপজেলার আহমাবাদের খোশালপুর নওপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ, জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রাম গ্রামের কৃষক সাজ্জাদুর রহমান, পৌরসভার থুপসারা মহল্লার আমিরুল ইসলামসহ অনেকে জানান, সরিষা চাষে শ্রম কম, অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগ-বালাইও নেই। শুধু জমি প্রস্তুত সময় একবার সার প্রয়োগ করে সরিষা রোপণ করা হয়। ফসল ঘরে তোলা সময় পর্যন্ত ১ থেকে ২ বার সেচ দিতে হয় সরিষার ক্ষেতে। এছাড়া সরিষার জমিতে পরে কোন ফসল ফলাতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করতে হয় না।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সাজু জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে। উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করার জন্য বিএডিসি উন্নত মানের সরিষা বীজ সরবরাহ করেছে কৃষকের মধ্যে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সরিষা বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। উন্নত জাতের সরিষা বীজের মধ্যে রয়েছে বারি-১৪, ১৭ ও সম্পদ।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























