
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ শসা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা জাকির হোসেন। তাঁর এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় আরও ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক শসা চাষ শুরু করেছেন।
মালচিং পদ্ধতিতে মাটির ওপর খড়, পাতা, পলিথিন বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা দমন হয়, মাটির ক্ষয় কমে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি ও ভালো ফলন নিশ্চিত হয়। শসার পাশাপাশি জাকির পেয়ারা, মালটা ও বরই চাষও করছেন।
জানা গেছে, জাকির হোসেন বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে গতানুগতিক চাষ বাদ দিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে পেয়ারা, মালটা ও বরই চাষ শুরু করেন এবং সফলতা পান। এরপর শসা চাষের পরিকল্পনা করেন। ইউটিউবে পদ্ধতি দেখে এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ২০২২ সালে ৭ হাজার টাকা ব্যয়ে বগুড়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। পরে ২০২৫ সালে শসা চাষ শুরু করেন।
প্রথম পর্যায়ে ৪০ শতাংশ জমিতে তুফান জাতের শসা রোপণ করা হয়। বর্তমানে বাগানে প্রায় ৪ হাজার গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। বাঁশ ও নেট ছাড়া মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ৮০ দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, গাছ রোপণের ৪০ দিন পর থেকে শসা বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ মণ শসা বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ শসার দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
দক্ষিণ বালিয়াকান্দি গ্রামে তাঁর খেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে শসা ঝুলছে। সারি সারি গাছের নিচে পলিথিন বিছানো, ছিদ্র দিয়ে গাছ বেড়ে উঠেছে। আগাছা নেই বললেই চলে। কয়েকজন শ্রমিক শসা তুলছিলেন।
খেতে শসা চাষ দেখতে আসা স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জাকির আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে সফল হয়েছেন। এ সময় এলাকায় সাধারণত ফুলকপিসহ অন্যান্য ফসল বেশি হয়, তবে শসা চাষ করে তিনি অল্প সময়ে ভালো আয় করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম রাসূল বলেন, জাকিরের শসা চাষে কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী। বাজারে ভালো দাম থাকায় তিনি লাভবান হয়েছেন।
























