ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাতক্ষীরায় লাভজনক ফসল হিসেবে কুল চাষে ঝুঁকছেন ক্রমেই বেশি কৃষক। অনুকূল আবহাওয়া ও উপযোগী মাটির কারণে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে উৎপাদিত কুলের বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।

সাতক্ষীরার বেলে-দোঁআশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের জন্য উপযোগী। কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকেরা অন্য ফসলের বদলে কুলের দিকে ঝুঁকছেন। সুস্বাদু হওয়ায় এ জেলার কুলের চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। কৃষি বিভাগের ধারণা, আমের পাশাপাশি সাতক্ষীরার কুলও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সাতক্ষীরার মাটি উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

ভালো ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় অনাবাদি জমিতেও এখন সারি সারি কুলগাছ দেখা যাচ্ছে। জেলায় বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি ও টক কুলসহ নানা জাতের চাষ হচ্ছে।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তাঁর দুই বিঘা জমির বাগানে ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে। দুই বিঘায় চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, বিক্রি প্রায় এক লাখ টাকার হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

একই এলাকার চাষি মোরশেদুল আলম জানান, চার বিঘা জমিতে টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল চাষ করেছেন। বিলাতি কুল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং অন্য জাতগুলো ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী বলেন, প্রতিদিন কাজ করে তিনি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা মজুরি পান।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে থাই, আপেল, নারিকেল ও টক কুলের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে কুল আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ১৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হতে পারে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। কুল ইতিমধ্যে বাজারে আসা শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, জেলার ঐতিহ্যের সঙ্গে কুল জড়িয়ে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ এলাকায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।