করোনা মহামারীতে শ্রীলংকার চা

আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে শ্রীলংকার চা শিল্প সংকটে পরেছে। বিশ্বে উৎপাদনে চতুর্থ ও রফতানিতে তৃতীয় স্থানে থাকা দেশটির চাল শিল্প বেশ বিপাকের মধ্যে সময় পার করছে।

মহামারী লকডাউনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারিজুন) দেশটিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় একপঞ্চমাংশ কমে গেছে।

এর পাশাপাশি একই সময়ে শ্রীলংকা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চা রফতানি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ কলম্বোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব শ্রীলংকার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন চলার পরও চা শিল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ না নিলে করোনা মহামারীতে আরো বড় সংকটে পড়তেন তারা খবর ইকোনমিনেক্সট কলম্বো টাইমস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিজুন সময়ে শ্রীলংকায় সব মিলিয়ে ১২ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় একপঞ্চমাংশ বা ১৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম

২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ কেজির বেশি চা উৎপাদন হয়েছিল ১৯৯৫ সালের প্রথমার্ধের পর এটাই দেশটিতে বছরের প্রথম ছয় মাসে চা উৎপাদনের সর্বনিম্ন রেকর্ড ওই বছরের জানুয়ারিজুন সময়ে শ্রীলংকায় মোট ১২ কোটি ৭৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল

মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ জুনে শ্রীলংকায় সব মিলিয়ে কোটি ৬৮ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে আগের বছরের একই সময়ে দেশটিতে মোট কোটি ৭৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল

বছরের প্রথম ছয় মাসে শ্রীলংকায় সাকল্যে কোটি লাখ কেজি হাই গ্রোন গ্রেডের চা উৎপাদন হয়েছে, যা ১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে কম সময় দেশটিতে মধ্যম গ্রেডের চা উৎপাদন হয়েছে কোটি ২৪ লাখ কেজি

২০০৯ সালের পর গ্রেডের চায়ের এটাই সবচেয়ে কম উৎপাদন অন্যদিকে গত ছয় মাসে দেশটিতে লো গ্রেডের চা উৎপাদন হয়েছে কোটি ৫৩ লাখ কেজি এটাও ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন

শুধু উৎপাদন নয়, বছরের প্রথম ছয় মাসে শ্রীলংকা থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানিতেও মন্দা ভাব দেখা গেছে সময় দেশটির রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১২ কোটি ৪০ লাখ ৮৬ হাজার কেজি চা রফতানি করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ কম

২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ কেজি চা রফতানি হয়েছিল মাসভিত্তিক হিসাবে গত জুনে শ্রীলংকান রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে কোটি ৩৬ লাখ কেজি চা রফতানি করেছেন আগের বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রফতানি হয়েছিল কোটি ৪১ লাখ কেজি চা

করোনা মহামারীতে শ্রীলংকার চা শিল্প সংকটে এর অন্যতম একটি হলো রফতানিতে ঘাটতি। বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চা রফতানিকারক দেশ শ্রীলংকায় পানীয় পণ্যটির মোট বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১১ দশমিক শতাংশ দেশটির একার দখলে দেশটি থেকে রফতানি হওয়া চায়ের প্রধান ক্রেতা ইরাক

চলতি বছরের জানুয়ারিজুন সময়ে শ্রীলংকান রফতানিকারকরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে কোটি ৬২ লাখ ৩৫ হাজার কেজি চা রফতানি করেছেন আগের বছরের একই সময়ে শ্রীলংকা থেকে ইরাকে পানীয় পণ্যটির রফতানির পরিমাণ ছিল কোটি ৯৬ লাখ ৬২ হাজার কেজি

ইরাকের পর তুরস্ক রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি চা রফতানি করেছে শ্রীলংকা গত জানুয়ারিজুন সময়ে দেশটি থেকে তুরস্কে কোটি ৫৭ লাখ ৮২ হাজার কেজি রাশিয়ায় কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রফতানি হয়েছে সময় শ্রীলংকা থেকে ইরান, আজারবাইজান, চীন, চিলি, সিরিয়া, সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা রফতানি হয়েছে

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত ২০ মার্চ শ্রীলংকায় লকডাউন ঘোষণা হয় এরপর দেশটির চা উৎপাদন রফতানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে দেখা দেয় শ্রমিক পরিবহন সংকট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী খাতটি রক্ষায় কার্যক্রম চালু রাখার বিশেষ অনুমতি দেয় শ্রীলংকা সরকার অনুমতি না পেলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির চা শিল্প আরো বড় সংকটে পড়ত যদিও এর পরও শ্রীলংকার চা উৎপাদন রফতানিতে ধস ঠেকানো সম্ভব হয়নি

করোনা মহামারীতে শ্রীলংকার চা শিল্প সংকটে শিরোনামের সংবাদটির তথ্য বণিক বার্তা সংবাদ মাধ্যম থেকে নেয়া হয়েছে।