রাজশাহী প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ফরমালিন, কার্বাইড যু্ক্ত ও অপরিপক্ক আম বাজারজাত না করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, এসব আম বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার (৭ মে) পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কার্যালয় মাঠে ফরমালিনমুক্ত, কার্বাইডমুক্ত ও পরিপক্ক আম বাজারজাত নিশ্চিতকরনের লক্ষে স্থানীয় আমচাষী ও আমব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি দেন।

যে সকল আড়ৎদারেরা আম চাষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আমে ফরমালিন ব্যবহার করে ইতিপূর্বে আম বাজারজাত করেছেন তাদের সতর্ক করে বলেন, সারাদেশসহ দেশের বাইরে রাজশাহীর আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তিনি জানান, ইতিপূর্বে আমে ফরমালিন ব্যবহার করায় এবং অপরিপক্ক আম বাজারজাত করায় ক্রমেই আমের চাহিদা কমে আসছে। ধসনেমে আসছে রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আমের বাজারে।

জেলা প্রশাসক আবদুল কাদের আরো বলেন, বানেশ্বর আমহাট রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট। এখানে জেলার পুঠিয়া, দূর্গাপুর, চারঘাট, বাঘা সহ কয়েকটি উপজেলার আম চাষীরা আম বেচা কেনা করেন।

আমচাষীদের যেন কোন ভাবে হয়রানির স্বীকার হতে না হয় এমনকি ওজনে কম বা বেশী নিলে, ব্যবসায়ীদের কাছে কেও চাঁদা চাইলে আম পরিবহনে সড়কে কোন সংস্থার দ্বারা কেউ হয়রানি হলে সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ায় আশ্বাষ দেন তিনি।

তিনি ব্যবসায়ীদের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়াও আশ্বাষ দেন এবং আমের সঙ্গে যাতে কোন প্রকার মাদক পরিবহন করা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার আহবান জানান।

পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিল উদ্দিন আহম্মেদ।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বানেশ্বর আম হাটে আর মাত্র ১৫ দিন পরেই আমের বিশাল হাট বসবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানেশ্বর আম হাট কে কেন্দ্র করে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সহ কয়েকটি বাহিনী নিয়োজিত থাকবে এবং প্রতিদিন মাঠে থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। থাকবে হেল্প ডেস্ক ও অভিযোগ বাক্স শুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদের সঞ্চালনে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান, বানেশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজি সুলতান, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদসহ কয়েকটি উপজেলার আমচাষী ও আম ব্যবসায়ী।