ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশের হাটবাজারে অতি পরিচিত একটি সবজি বরবটি। সবুজ রঙের লম্বাটে এই সবজি দামেও সাশ্রয়ী, সহজলভ্যও।

ভাজি, ভর্তা বা তরকারি—বাঙালির পাতে বরবটির উপস্থিতি নিয়মিত। সাধারণ দেখতে এই সবজিটির পুষ্টিগুণ কিন্তু বেশ সমৃদ্ধ। হাড় মজবুত করা, ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বরবটি কার্যকর বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।

তবে সবার জন্য এই সবজি সমান নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি ও বাত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

লাইফ ট্রাস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জেনেরিক হেলথ কেয়ার সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস বরবটির পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

পুষ্টির ভাণ্ডার

পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরবটি কম ক্যালরিযুক্ত হলেও এতে প্রোটিন, আঁশ ও বিভিন্ন ভিটামিন–মিনারেলের ভালো সমন্বয় রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বরবটিতে প্রায় ৪০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি উচ্চ ফাইবার ও কম ফ্যাটের একটি আদর্শ উৎস।

প্রতি ১০০ গ্রাম বরবটিতে রয়েছে:

  • কার্বোহাইড্রেট: ৮.৪ গ্রাম
  • প্রোটিন: ২.৮ গ্রাম
  • চর্বি (ফ্যাট): ০.৪ গ্রাম
  • আঁশ (ফাইবার): ২.৭ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম: ৫০ মি.গ্রা.
  • আয়রন: ০.৭ মি.গ্রা.
  • ভিটামিন সি: ১৮.৮ মি.গ্রা.
  • ভিটামিন এ: প্রায় ৮৬ আইইউ
  • পটাশিয়াম: ২৪০ মি.গ্রা.
  • ম্যাগনেসিয়াম: ৪৪ মি.গ্রা.

এ ছাড়া এতে ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনল রয়েছে।

কেন খাবেন বরবটি

১. হাড়ের সুরক্ষা ও জয়েন্টের যত্ন: বরবটিতে সিলিকন রয়েছে, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। এর বীজে থাকা ক্যালসিয়ামও হাড় মজবুত করে। পুষ্টিবিদের ভাষায়, বরবটির ভিটামিন কে অস্টিওআর্থারাইটিস সমস্যায় অস্থিসন্ধির যত্ন নেয় এবং জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সহায়ক।

২. হৃদরোগ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: এতে থাকা আঁশ শরীরের ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এতে হৃদযন্ত্র সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও বুকজ্বালার সমস্যা কমাতেও ভূমিকা রাখে।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: বরবটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর যৌগ দূর করে, ফলে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও কমে।

৪. দৃষ্টিশক্তি ও ত্বকের যত্ন: ভিটামিন এ ও সি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত বরবটি খেলে ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন ধীর হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল থাকে।

৫. হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য: বরবটির ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী।

৬. আয়রনের ঘাটতি পূরণ: ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে। বরবটিতে নিজেও আয়রন থাকায় এটি রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সতর্কতা ও খাওয়ার নিয়ম

উপকারিতা থাকলেও বরবটি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে বরবটি পরিমিত, পরিষ্কার ও ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। কাঁচা বা অপরিচ্ছন্ন বরবটি খেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

পুষ্টিবিদরা কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলেছেন:

  • কিডনি রোগী: যাদের কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনজনিত সমস্যা আছে, তাদের বরবটি এড়িয়ে চলা উচিত।
  • বাত বা ইউরিক অ্যাসিড: গেঁটে বাত (Gout) থাকলে বরবটি ক্ষতিকর হতে পারে।
  • ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়াই ভালো।
  • গ্যাস্ট্রিক: অতিরিক্ত বরবটি খেলে কারও কারও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।