
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীতে প্রতিকেজি ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগিতে ১০ টাকা ও সোনালী মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগির চাহিদা থাকলেও আমদানি কম। আমদানি ও চাহিদার তারতম্যের কারণে দাম বেড়েছে বলে মনে করেন পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বাজারে মাঝারি আকারের মুরগির চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বড় আকারের মুরগি সংকট দেখা দিয়েছে।
আজ সোমবার (১০ অক্টোবর ২০২২) নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষীপুর কাঁচাবাজার ও শিরোইল কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজশাহীর সাহেববাজার মাষ্টারপাড়া কাঁচাবাজারের পাইকারি মুরগি বিক্রেতা মমিন হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ঈদে মিল্লাদুন্নবি উপলক্ষে অনেকেই ছোট-খাট আয়োজন করে। এতে মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। শুধু মুরগির মাংসের দাম বাড়েনি; বেড়েছে হাঁসের দামও। একবারে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে, বাজারে মুরগির কিছুটা সংকট দেখা দেওয়ার কারণেই এভাবে দাম বেড়েছে।
পড়তে পারেন: ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণ করে কারা, কেন ধরা খায় খামারিরা?
আরেক ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, কয়েকদিন ধরেই মুরগির দাম বেশি। কেজিতে বেড়েছে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। তবে, ব্রয়লার ১৭০ টাকার বেশি দাম আর বাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে।
এই মুরগি ব্যবসায়ী এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে, বড় ব্রয়লার ১৬৫ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি এবং ছোট ব্রয়লারও ১৭০ টাকা। সপ্তাহে শুরুর দিকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে কিন্তু হাটৎ ১০ টাকা বেড়েছে। সোনালী ২৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে আগে আর এখন ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার বাজারে তেমন নাই তবে প্যারেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, দেশী মুরগি নাই, পাতিহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে যা ৩০০ টাকা দাম ছিল এবং রাজহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে বাজারের ডিম ব্যবসায়ী শামীম হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, শীতে ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। কিন্তু এবার সারবছরই চড়া দাম। প্রতিহালি (৪টি) লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। সাদা ডিম ৪২ টাকা ও হাঁসের ডিম ৬০ টাকা, দেশী মুরগি ৬৬ টাকা হালি দরে বিক্রি করছি।
পড়তে পারেন: ডিম-মুরগির দামে খুশি খামারিরা, আরও বাড়তে পারে দাম
মুরগির দাম কমা বাড়ার কারন জানতে চাইলে রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মূলত দামের চাবিটা নাড়ায় হাতেগোনা কয়েকজন। গুটিকয়েক পোল্ট্রি কোম্পানির কারসজিতেই হুটহাট দাম চড়ে। এবার যা হয়েছে তা হলো, বাজারে মুরগির চাহিদা হটাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই হটাৎ দাম বেড়েছে। ব্রয়লার ১৫০ টাকা কেজি থাকলে খামারিদের লাভ হবে। কম হলেই খামারিরা লোকসানে পড়ে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটবড় পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠলেও রাজধানীর অদুরে টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুর ও গাজীপুর এলাকাকে ঘিরে দেশের সবচেয়ে বড় পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠেছে। মূলত এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজার।
তিনি আরোও বলেন, ডিমের দাম আর বাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে। খাদ্যের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৮০০ টাকা। কিন্তু ডিমের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি। বড় বড় কোম্পানিগুলো ডিম উৎপাদনে নেমেছে তাই প্রান্তিক খামারিদের দু:খ ঘোঁচে না। আর খাদ্যের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























