
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশ ভারতে করোনার তাণ্ডবে তুলার বাজার অনেকটাই মন্দা হয়েছিল। বর্তমানে পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ভারতীয় চাষিদের চলতি মহামারির মধ্যে তুলা না বেচে আগামী বছরের শুরুর দিকে বেচার কথা বলছেন। তারা বলছেন-ভারতে বাড়তে তুলার দাম।
মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন সীমিত হয়ে আসার কারণে দেশটিতে তুলার মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেছেন বিশ্লেষকরা। ভারতে বাড়তে তুলার দাম এমনই খবর প্রকাশ করেছে বিজনেস রেকর্ডার ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতামত, করোনা সংক্রমণ, দেশজুড়ে লকডাউন জারি, শ্রমিক সংকট এবং রফতানি খাতের শ্লথতার কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের বাজারে তুলার দরপতন দেখা দেয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের মান্দির পাইকারি বাজারে রফতানিযোগ্য তুলার দাম ছিল কুইন্টালপ্রতি ৫ হাজার রুপির (ভারতীয় মুদ্রা) আশপাশে। তবে করোনা মহামারী চলতি বছর ভারতীয় তুলার বাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতি বদলে দেয়। এপ্রিল নাগাদ দেশটির বাজারে প্রতি কুইন্টাল তুলার দাম ৪ হাজার ২৫০ রুপিতে নেমে আসে।
বর্তমানে মান্দির পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল তুলার দাম ৫ হাজার ৭৯০ রুপির আশপাশে অবস্থান করছে। যদিও ভারতে তুলার ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) কুইন্টালপ্রতি ৫ হাজার ৮২৫ রুপি। বর্তমান প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকলে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল তুলার সর্বোচ্চ দাম ৫ হাজার ৮৭৫ রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে গুজরাটের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএইউ) কৃষি-অর্থনীতি বিভাগ।
চলতি বছরের অক্টোবর নাগাদ ভারতের পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল তুলার দাম ফের ৫ হাজার ৩০০ রুপিতে উন্নীত হয়। ভারতে করোনা সংক্রমণ না কমলেও বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে লকডাউন শীথিল করায় রফতানিতে গতি ফিরতে শুরু করে। এটাই দেশটির বাজারে তুলার মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট এমজি ধান্দালিয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০২১ সালের শুরুতেই পণ্যটির দাম আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য চাষীদের নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের শুরুতে তুলা বিক্রির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে তারা আরেকটু বাড়তি অর্থ পাবেন। আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি কমে আসবে।
ভারতের বাজারে তুলার সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পণ্যটির উৎপাদন সীমিত হয়ে আসা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ১২৯ দশমিক ৫৭ লাখ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হতে পারে। পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়াতে পারে সাকল্যে ৩৭১ লাখ বেলে। গত অক্টোবরের পর থেকে গুজরাটসহ আশপাশে রাজ্যগুলোয় বৃষ্টি বেশি হয়েছে। এতে তুলার আবাদ ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে এটাও প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, মন্দা ভাব কাটিয়ে গত বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে আবাদ কমায় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে চলতি বছর দেশটিতে তুলা উৎপাদনের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ বেলে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে তুলা উৎপাদন কমতে পারে ২০ লাখ বেল।
ভারতে বাড়তে তুলার দাম সংবাদের তথ্য বণিক বার্তা থেকে নেওয়া হয়েছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























