
এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ভিড়ের বড় অংশই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা সীমিত আয়ের মধ্যেই পরিবারের জন্য কেনাকাটা করার চেষ্টা করছেন।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতের দোকানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন গাড়িচালক মো. সেলিম। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখার পর শেষ পর্যন্ত ছেলের জন্য একটি শার্ট–প্যান্ট এবং মেয়ের জন্য একটি ফ্রক কেনেন তিনি। নিজের জন্য কী কিনেছেন—জানতে চাইলে মৃদু হেসে বলেন, ‘বাচ্চাদেরটা আগে। ওরা খুশি হলেই আমাদের ঈদ। নিজের জন্য না কিনলেও চলবে।’
সেলিমের মতো অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ সীমিত টাকার মধ্যেই সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন। রাজধানীর নিউমার্কেট, মিরপুর–১, গুলিস্তান ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সরেজমিনে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। গাড়িচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। দুই হাজার টাকার মধ্যেই কেনাকাটা করতে হবে। তাই কম দামে পাওয়ার আশায় ঘুরে ঘুরে কিনছি। শিশুদের মুখে যেন হাসি ফোটানো যায়।’
নিম্ন আয়ের অনেকে সীমিত বাজেটের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে দরদাম করছেন। বিভিন্ন জায়গায় পাঞ্জাবি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। প্যান্ট মিলছে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকায়। অন্যদিকে থ্রি-পিস ও শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে শুরু করে প্রায় ৬ হাজার টাকায়। বসুন্ধরা সিটিসহ বড় মার্কেটগুলোতে তুলনামূলক ভালো মানের পোশাক পাওয়া গেলেও সেখানে দাম বেশি হওয়ায় অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
দোকান ব্যবসায়ীদের ধারণা, এবার সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হতে পারে। নিউমার্কেট এলাকার দোকানিরা জানান, এবার মাঝারি ও উচ্চমূল্যের পোশাকের তুলনায় কম দামের পোশাকের চাহিদাই বেশি। বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সাশ্রয়ী পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন।
চাকরিজীবীদের অনেকে ঈদের কেনাকাটার জন্য বোনাসের অপেক্ষায় থাকেন। আবার কেউ কেউ ঈদের আগের রাতেও কেনাকাটা করেন। এক দোকান কর্মচারী বলেন, ঈদের কাছাকাছি সময়ে বোনাস পেলে তখনই কেনাকাটা করবেন। টুপি ও মাস্ক বিক্রেতা লামিয়া বলেন, তিনি সাধারণত চাঁদরাতেই কেনাকাটা করেন। টুপি বিক্রি থেকে যে লাভ হয়, তার একটি অংশ দিয়ে তখন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন। ওই সময় অনেক পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।
দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান বলেন, গত বছর রমজান মাসে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু পোশাক খাতেই ছিল ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা। এসব ক্রেতার মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
























