আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: করোনাকালীন সময়ে ভোজ্যতেলের পরিবহন ঘাটতি দেখা দেয়। সে সংকট মোকাবেলা শেষে নতুন সংকট হয়ে দাঁড়ায় ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ। ফলে বৈশ্বিকভাবে বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে দেখা যায়। ভাটা পড়ে ইউক্রেনের তেল ও দানা শস্য উৎপাদনে। সব পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় সয়াবিন চাষে ঝুঁকছে চীনের চাষিরা।

চীনের ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস ব্যুরো সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনে চলতি বছর সয়াবিন উৎপাদনে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। শুধু সয়াবিনে নয়, গম ও ভুট্টা উৎপাদনও বেড়েছে। তবে উৎপাদনের হার অত্যন্ত কম। বৈরী আবহাওয়ায় কমেছে চাল উৎপাদন।

সয়াবিন উৎপাদনে স্থানীয় কৃষককে উৎসাহিত করতে চলতি বছর বেশকিছু নীতি গ্রহণ করেছে চীন সরকার। উদ্দেশ্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা। সরকারের এ পদক্ষেপ এরই মধ্যে সফল হয়েছে। এ বছর পণ্যটির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ টনে। তেলবীজটির আবাদ বেড়েছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

বেইজিং অরিয়েন্ট এগ্রি বিজনেস কনসালট্যান্ট লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মা ওয়েংফেং বলেন, উত্তর-পূর্ব চীনে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ আবহাওয়া সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করছে ভারত

পশুখাদ্য তৈরিতে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করছে চীন

সয়াবিন উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস আর্জেন্টিনার

এদিকে ভুট্টা উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৭ কোটি ৭২ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস ব্যুরো বলছে, এবার সয়াবিন আবাদ বাড়ানোয় কৃষক ভুট্টার আবাদ কমিয়ে দিয়েছিলেন। এর পরও বেড়েছে উৎপাদন। অন্যদিকে গত উৎপাদন দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

তবে চাল উৎপাদন ২ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৮৫ লাখ টনে। দক্ষিণ চীনে উষ্ণ আবহাওয়া খরা উৎপাদন ব্যাহত করেছে।

এদিকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। দেশটি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে সিংগভাগ পাম অয়েল আমদানি করে। গত বিপনন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করছে দেশটি।

মুম্বাইভিত্তিক সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত বিপণন মৌসুমে ভারতের পাম অয়েল আমদানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে সয়াবিন তেল আমদানি ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, ইন্দোনেশিয়া রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।

গত মাসে ভারতে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষ হয়েছে। এ মৌসুমে দেশটি ৭৯ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। এর আগের মৌসুমে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮৩ লাখ টন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর সূর্যমুখী তেল আসে ইউক্রেন থেকে। গত মাসে ভারত পরিশোধিত পাম অয়েল ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের বেজ আমদানি মূল্য ব্যাপক বাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, দেশটির সরকার রাতারাতি ভোজ্যতেল, স্বর্ণ ও রুপার বেজ আমদানি মূল্য বাড়িয়েছে। এ মূল্যের মাধ্যমে মূলত একজন আমদানিকারককে কী পরিমাণ ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়, তা নিরূপণ করা হয়।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ