নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলছে জমি প্রস্তুত, ক্ষেত পরিচর্যা আর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করার কাজ। কম বেশি দেশের বিভিন্ন জেলায় শীত উপেক্ষা করে চলছে বোরো রোপণের ধুম। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলেও থেমে নেই কর্মযজ্ঞ। সারা বছরের খাবারের জোগাড় এই বোরো ধান। শীত উপেক্ষা করে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলে এবার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করার জন্য বীজতলা তৈরিসহ জমি তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে যমুনা চরের কৃষান-কৃষানীরা এখন কোমর বেঁধে ফসলি বোরো ক্ষেতে নেমেছেন। তাদের সহযোগিতা করছে পরিবারের ছেলেমেয়েরাও।

পড়তে পারেন: বোরো ধানের বীজতলা তৈরির সঠিক নিয়ম ও বিশেষ পরামর্শ

বন্যা আর নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়া কৃষকরা এবার সরিষার বাম্পার ফলনের পর এখন বোরো আবাদ করতে ব্যস্ত তারা। জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকরা বেশি সুদে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জমি তৈরি ও বীজের ব্যবস্থা করে বোরো আবাদ করছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ক্ষেতের পরিচর্যা। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে বাম্পার বোরো উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

এদিকে বোরো আবাদ সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের জন্য ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ ইউরিয়া সার বাঘাবাড়ী বাফার গুদামে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় এসব সার কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ, ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে বীজতলা তৈরিসহ চারা রোপণের কাজ চলছে।

পড়তে পারেন: ধানের ব্লাস্ট রোগ ও প্রতিকার

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌর চন্দ্র দত্ত বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত বোরো আবাদে কৃষকের সমস্যা হয়নি। জেলায় হাইব্রিড জাতের ১৩ হাজার হেক্টর, উফশী জাতের ১ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে রোরো ধানের লক্ষ ধরা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে কৃষকরা বোরো আবাদ করে যাচ্ছেন।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ