
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের কৃষিখাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কাজী পেয়ারার জনক কৃষিবিজ্ঞানী ড. বদরুদ্দোজা আজীবন সম্মাননা পেলেন। ৯২ বছর বয়স পার হলেও দেশের কৃষির উন্নয়নে এখনো অবদান রেখে চলেছেন ড. এম কাজী বদরুদ্দোজা।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর পক্ষ থেকে গুণী এ কৃষি বিজ্ঞানীকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। গত ২০১২ সালে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া এ অনুষ্ঠানে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২০ দেয়া হয়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও চ্যানেল আই আয়োজিত এ অনুষ্ঠাবে দুটি নতুন ক্যাটাগরিসহ মোট নয় ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেয়া হয়।
অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সফল কৃষক, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেন, বছরের সেরা (পুরুষ) কৃষক মাল্টা চাষি সাখাওয়াৎ হোসেন, বছরের সেরা (নারী) কৃষক ফরিদপুরের পেঁয়াজবীজ চাষি শাহিদা বেগম, কৃষি উদ্যোক্তা এরশাদ মাহমুদ, জুরি স্পেশাল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান ও চট্টগ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা কোহিনুর কামাল, সেরা কৃষি প্রতিষ্ঠান (গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি) জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং, সেরা কৃষি প্রতিষ্ঠান (সহযোগিতা ও বাস্তবায়ন) আরবান, সেরা কৃষি সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম হিরু ও দুর্যোগ প্রতিরোধে সেরা কমিউনিটি ‘লিডার্স’ নামের প্রতিষ্টান।
বিভিন্ন সংবাদপত্রের আলোকে ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা সম্পর্কে দেখা যায়, ড. এম বদরুদ্দোজা ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি অ্যাগ্রি ডিগ্রি শেষ করার আগে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানে বিভাগীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অনুমোদনে অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে একজন রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে দক্ষতার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নেতৃত্বের গুণাবলির স্বীকৃতি হিসেবে ‘ফুলব্রাইট’ স্কলারশিপ পেয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।
১৯৫৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রপ বোটানিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করার পর দেশে ফিরে এসে কৃষি গবেষণায় নিজেকে নিবেদিত করেন ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা। এরপর থেকে সারা জীবন তিনি নিজের গবেষণা এবং এ দেশের কৃষির উন্নতির জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন।
ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা ১৯৫৭ সালে ইকোনমিক বোটানিস্ট (ফাইবার) পদ লাভ করেন। সেই সময়ের কৃষকদের কাছে ফসল বলতে ছিল প্রধানত ধান ও পাট। স্বল্প পরিচিত ফসল গম ও ভুট্টা চাষ সম্পর্কে জানার জন্য তিনি সুইডেনের বিশ্বখ্যাত স্তালভ গবেষণা কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
এর পরপরই লুগন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ ইন জেনেটিকস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে দেশে ফেরেন এবং নতুন উদ্যমে কৃষি গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের পাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক ও মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে তিনিই প্রথম বাংলাদেশে উচ্চ ফলনশীল গম প্রবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
কাজী বদরুদ্দোজা ধানের বাইরে বাংলাদেশের প্রধান দুটি দানাদার ফসল চাষ শুরুর ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেন। দেশে আধুনিক জাতের গম উদ্ভাবন ও চাষ শুরু করা আর ভুট্টার বাণিজ্যিক আবাদ তাঁর হাত দিয়ে শুরু। ভুট্টা থেকে তেল উদ্ভাবন এবং তা পোলট্রিশিল্পের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার শুরুর ধারণাটিও তাঁর কাছ থেকে আসা।
কাজী পেয়ারার জনক কৃষিবিজ্ঞানী ড. বদরুদ্দোজা আজীবন সম্মাননা পেলেন এতে এগ্রিকেয়ার২৪.কম এর পক্ষ থেকে শুভ কামনা জানানো হয়েছে।
























