
ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশে ধানের উল্লেখযোগ্য উৎস বিল। শুকনো মৌসুমে বিলে চাষ করা হয় বোরো ধান। যেসব বিল ধান রোপনের উপযোগী হয় না সেসব বিলের পানি সেচে ধান রোপন করা হয়। এমনই একটা বিলে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ৬০০ বিঘা বোরো খেত। প্রায় ৫০০ কৃষক বাড়তি খরচ ও সময়ের ব্যবধানের কারণে কাঁদছেন।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের বিল বোকড়। বিল এলাকার প্রায় ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকেরা পুনরায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে সেচ শুরু করেছেন। ৪ ফেব্রুয়ারির ঝড়-বৃষ্টিতে পানির চাপে পাশের মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে পুনরায় বিলের প্রায় ৬০০ বিঘা জমি তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পড়তে পারেন: লালপুরে বাণিজ্যিকভাবে বেদেনার চাষ শুরু
যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। এই ভবদহ অঞ্চলের পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী দিয়ে। বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে পলি পড়ায় নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। ভবদহ অঞ্চলে অন্তত ৫২টি ছোট-বড় বিল আছে। বিলগুলো ভরে আছে পানিতে। নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষ।
বিল বোকড় ভবদহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিল। সম্পূর্ণ বিল জলাবদ্ধ হয়ে আছে। বিলের পশ্চিম দিকে পাঁচকাটিয়া ও উত্তর দিকে নেবুগাতী গ্রাম। গত বছর এলাকার কৃষকেরা সেচযন্ত্র দিয়ে ৪৭০ বিঘা জমি সেচে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। এ বছর তাঁরা জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিলের ওই অংশকে দুই ভাগ করে এক অংশে ৩০০ বিঘা এবং অপর অংশে ২৭০ বিঘা করে জমির চারদিকে বাঁধ দেন।
পড়তে পারেন: একেকটি বেগুন ২ কেজি, নাম দিয়েছেন “লাউবেগুন”
বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের বাঁধ ছিল এলাকার মিহির বালার মাছের ঘেরসংলগ্ন। এরপর তাঁরা বিলের দুই অংশের পাঁচ জায়গায় ১৯টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র বসিয়ে সেচ দিয়ে পানি বের করে দিতে থাকেন। এতে বিল প্রায় শুকিয়ে যায়। বিলে চাষাবাদ শুরু হয়। অনেকে চারা কিনে এনে খেতে রোপণও শুরু করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলেও সেচ চলছিল। এই অবস্থায় ঝড় ওঠে। সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টি। ঝড়-বৃষ্টিতে মিহির বালার মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে বিল পানিতে ভরে যায়।
নেবুগাতী গ্রামের কৃষক সামান্দার বিশ্বাস বলেন, ‘সেচ দেওয়ায় বিলের প্রায় সব জমি শুকিয়ে গিয়েছিল। আমার পাঁচ বিঘা জমিতে চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এই অবস্থায় ঝড়-বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে সব শেষ হয়ে গেছে।’
পড়তে পারেন: বোরো ধানের বীজতলা তৈরির সঠিক নিয়ম ও বিশেষ পরামর্শ
নেবুগাতী অংশের সেচ কমিটির সভাপতি সমরেশ রায় বলেন, ‘পুনরায় সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ শুরু করেছি। আশা করছি, কোনো সমস্যা না হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জল শুকিয়ে যাবে। এরপর কৃষকেরা বিলে ধানের চারা রোপণ করতে পারবেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারির ঝড়-বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পাঁচকাটিয়া ও নেবুগাতী এলাকার কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা সেচযন্ত্র দিয়ে, সাধারণত ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে পানি সেচ দিয়ে বোরো ধান চাষ করেন। এবার বাঁধ ভাঙার কারণে তাদের সমস্যা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























