নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বোরো ধান চাষে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার প্রান্তিক ও চরাঞ্চলের দুই লাখের বেশি প্রান্তিক কৃষকরা। ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

এতে প্রতি হেক্টরে চাষিদের সেচ ও মাড়াইয়ের জন্য অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে ৭০০ টাকার বেশি। ফলে ডিজেল চালিত পাম্পের অধীনে ধান চাষে অনাগ্রহ হয়ে পড়ছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৩৮ হাজারের বেশি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করে বোরো আবাদ করছেন দুই লাখের বেশি প্রান্তিক কৃষক।

পড়তে পারেন: বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেলো ৬০০ বিঘা বোরো খেত, কাঁদছেন কৃষকরা

স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, বোরো মৌসুমে এক হেক্টর জমিতে ১০ থেকে ১৫ বার সেচ দিতে হয়। এতে প্রয়োজন হয় ৪৫-৫০ লিটার ডিজেল। এই হিসাবে প্রতি হেক্টরে বোরো চাষে ডিজেলের বাড়তি দামে কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হবে ৭০০ টাকার বেশি। আর পুরো জেলায় কৃষকের বাড়তি খরচ হবে ৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।

সোনাহাট ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক মালেক বলেন, ‘তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ধানের চাষ করাই দুষ্কর হয়ে যাবে। হালচাষের খরচ বেড়ে গেছে। আগে ট্রাক্টর দিয়ে চাষে প্রতি বিঘা জমি ৩০০ টাকা লাগত। এখন ডিজেলের দাম বাড়ায় ৪০০-৪৫০ টাকায় চাষ দিতে হচ্ছে। শ্যালো মেশিনে সেচের খরচ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়া আবাদ কমায় দিছি।’

পড়তে পারেন: এক কেজি বোরো ধান উৎপাদনে পানির খরচ নিয়ে যা বললো ব্রি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ডিজেলসহ সব উপকরণের দাম বাড়ায় ১ একর জমিতে বোরো আবাদ করতে গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত ২-৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হবে। দেবালয় গ্রামের কৃষক হযরত আলী বলেন, তেলের দাম বাড়ায় একরপ্রতি সেচখরচ ৪০০ টাকা, ট্রাক্টর দিয়ে চাষে ৩০০ টাকা ও মাড়াইয়ে ৩০০ টাকার খরচ বেশি পড়েছে। সারসহ অন্য উপকরণের দামও চড়া। তাই প্রতি একরে অতিরিক্ত খরচসহ মোট খরচ পড়ে ৪২ থেকে ৪৩ হাজার টাকা। অথচ প্রতি মণ ধানের দাম ৮০০ টাকা ধরে একরে ৫০ মণ ফলন হলেও ৪০ হাজার টাকার বেশি উঠবে না। তাহলে চাষ করে লাভ কী?

পড়তে পারেন: বোরো ধানের বীজতলা তৈরির সঠিক নিয়ম ও বিশেষ পরামর্শ

এদিকে চরাঞ্চলে জমিতে বাড়তি সেচ দিতে হয় বলে সেখানে খরচ আরও বেশি পড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ইরি-বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। কোদাল দিয়ে জমি সমান করা, খেতে পানি দেওয়া, খেতের আইল ঠিক করা, আগাছা পরিষ্কার, গোবর সার ছিটানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত কৃষক। কৃষকেরা বলেন, বোরো মৌসুমে চরাঞ্চলের প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ৫০ থেকে ৫৫ বার সেচ দিতে হয়। যাতে প্রয়োজন হয় গড়ে ৬০ লিটার ডিজেল। এতে প্রতি বিঘায় কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৯০০ টাকা।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের দুধকুমার নদীর পাড়ের বাসিন্দা কৃষক হোসেন আলী বলেন, চরের বালুজমিতে সকালে পানি দিলে দুপুরে শুকিয়ে যায়। দিনে দুবার সেচ দিতে হয়। তেলের দাম বাড়ায় অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ সরকার জানান, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সেচপাম্পে দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খরচ কমাতে কৃষকদের আরও কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ