নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে প্রভাব পড়েছে সবধরণের খাদ্যপণ্যে। বৈশ্বিক দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ঠিক এ সময়ই বাংলাদেশ সরকার নিন্মআয়ের মানুষের জন্য কিছুটা কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ করে দিয়েছেন। পণ্য বিতরণের এ কাজটি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য বিক্রয়ের নতুন পদ্ধতি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছে ২ লাখ মানুষ।

রোববার (২০ মার্চ) থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সারাদেশে ‘এক কোটি পরিবারের’ কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করবে বলে ঘোষণা দেয় টিসিবি। সে অনুযায়ী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫৫ হাজার পরিবার এবং উপজেলা ও পৌরসভার এলাকায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৪০ জনকে ভুর্তকি মূল্যে টিসিবির এসব পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। রোববার সকাল ১০ টায় নগরীর মহিষবাথান কলোনী মাঠে টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

পড়তে পারেন: টিসিবির এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড যারা পাচ্ছেন

এসময় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ বলেন, জেলায় সিটি কর্পোরেশনের ৭ টি পয়েন্টসহ মোট ২৭ টি পয়েন্ট টিসিবির এসব পণ্য প্রদান করা হচ্ছে। ২০ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে চিনি, ডাল ও তেল বিক্রয় করা হবে। ৩ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পণ্যের সাথে ছোলা, পিঁয়াজ ও খেজুর ফল যুক্ত করে বিক্রয় করা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার প্রথম পর্যায়ে ২ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল ও ২ লিটার তেল কিনতে পারছেন। দাম পড়ছে প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা ও প্রতি কেজি মসুরের ডালের দাম পড়ছে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ একজন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ৪৬০ টাকায় ২ লিটার তেল, ২ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুরের ডাল নিতে পারছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই প্যাকেজর সাথে ২ কেজি ছোলা, খেজুর ফল ও পিঁয়াজ যুক্ত করে বিক্রয় করা হবে।

পড়তে পারেন: আগামীকাল থেকে যেসব স্থানে টিসিবির পণ্য কেনা যাবে

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রমজান উপলক্ষে যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে উপকারভোগীরা যেমন উপকার পাবেন একইসাথে বাজার নিয়ন্ত্রণেও এ উদ্যোগ জোরালো ভূমিকা পালন করবে। সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ের নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা এ সুবিধা ভোগ করবেন। তাদের সবার কাছে ইতিমধ্যে এসব কার্ড পৌঁছানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের মাধ্য তালিকাভুক্তের পর টিসিবির পণ্যের জন্য মোট ২ লাখ কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৫ হাজার এবং জেলার ৯ উপজলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ডিলারদের থেকে কার্যক্রম চলা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোক্তারা টিসিবির দেওয়া পণ্য তুলতে পারবেন।

উল্লেখ্য, টিসিবি কার্ডের এ তালিকা করা হয়েছে করোনাভাইরাস মহামারীকালীন নগদ সহায়তা পাওয়া ৩০ লাখ পরিবারের সঙ্গে পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনসংখ্যার দারিদ্রতার সূচক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ