মেহেদী হাসান, রাজশাহী: নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ধানচাষি আব্দুল মান্নান ধানের হাট সাবাই’য়ে ধান এনেছেন বেচতে। মহাজনের ঘরে ধান ঢেলে দেওয়ার পর গুণছেন টাকা! সেইসাথে ঠোঁটের কোনে এক মৃদৃহাসির ঝলক। এতো বেশি দামে ধান কোনদিন বেচতে পারেননি তিনি!

রাজশাহীর চার কৃষি অঞ্চলে সুগন্ধি জাতের ধান চাষ হয়। এবার ধানের চাষ বেড়েছে। নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলার সর্বত্রই চাষ হয় চিনিগুঁড়া আতপ ও চিকন ধানের বিভিন্ন জাত।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত আমন মৌসুমে খেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থাকলেও কৃষকরা আতপ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় অল্প খরচের ধারণা পাল্টে উৎপাদন খরচ শেষ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সেসময় চিন্তায় পড়েন চিকন ধানের চাষিরা। পরে বাজারে ধানের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

৭ দিনের ব্যবধানে বাড়লো ৯ পণ্যের দাম

আসছে জিঙ্কসমৃদ্ধ চিকন চালের জাত ‘ব্রি ধান ১০০’

বিঘায় ফলন ২২মণ ব্রিধান ৭৫, খুশি চাষিরা

সক্রিয় হচ্ছে সিন্ডিকেট, ধানের মণে উধাও ২৫০ টাকা

যা কৃষকের ধারণার বাইরে। এক একর জমিতে এ সুগন্ধি ধান চাষ করতে (কাটা-মাড়াইসহ) খরচ পড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ধান পাওয়া যায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ করে। সে হিসাবে কৃষকের লাভ থাকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি। কারণ ধানের মণ শুরুর দিকে ২ হাজার ৫০০ টাকা মণে দাঁড়ালেও পরে তা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ব্রি-৯০ জাতের চিকন ধানের মণ ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, ৮ কাঠা জমিতে চিকন ধান ব্রি-৩৪ চাষ করেছিলেন। তাতে ফলন হয়েছে ৬ মণ। ৬ মণ ধানের দাম ১৮ হাজার টাকা আশা করেছেন। পরে আরো দাম পাওয়ার আশায় বেচেননি তিনি। এ ধান লাগানোর সময় বীজ হিসেবে বিক্রি হলে বাজারে আরও দাম বেশি পাওয়া যাবে। সুগন্ধি ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা দারুণ খুশি।

তানোরের কৃষক আবেদ আলী জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে তুলসীমালা ধানের আবাদ করেন। ধান লাগানো থেকে কাটা পর্যন্ত একরপ্রতি তাঁর খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। প্রতি একরে তিনি ধান পেয়েছেন ৪০ মণ। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি করে পেয়েছেন ২ হাজার ২০০ টাকা করে। বাজারে এ ধানের চাহিদা অনেক বেশি রয়েছে। কৃষকেরা দামও ভালো পাচ্ছেন।

বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: শামছুল ওয়াদুদ বলেন, সুগন্ধি ধান আবাদে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সুগন্ধি ও চিনিগুঁড়া চাল দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। চিকন ধান ব্রি-৩৪, ব্রি-৯০, ব্রি-৯১ ধান চাষে সেচ, সার ও কীটনাশক তেমন লাগে না। আবাদে খরচ খুব কম হয়। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকেরা দামও ভালো পাচ্ছেন। কিছুটা সময় পার হলে এই ধানের দাম আরও বাড়বে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ