জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মোট ২১,৮০০.০০ (একুশ হাজার আটশত) কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলতি (২০১৮-২০১৯) অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬.৮৬ শতাংশ বেশি।

আজ মঙ্গলবার সরকারের কৃষি ও কৃষক বান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃষি ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে (২৫ জুলাই) কৃষি ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এ নীতিমালা ও কর্মসুচি প্রণয়ন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস, এম, মনিরুজ্জামান ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো সংক্ষেপে আলোকপাত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার দে, কৃষি ঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কান্তি বৈরাগীসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের জন্য ৯,৮৭৫.০০ কোটি টাকা এবং বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য ১১,৯২৫.০০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকসমূহ মোট ২১,৩৯৩.৫৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৫%।

বিগত অর্থবছরে মোট ৩৯,৬২,৫০৮ জন কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকসমূহের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৫,৭৬,১৩৭ জন নারী প্রায় ৬,৩০৯.৫৮ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন।

উক্ত অর্থবছরে ৩০,৭৩,১৫৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫,০৯২ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৮,৩৩৯ জন কৃষক প্রায় ৩০.৪৭ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কৃষকদের নিকট কৃষি ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু যুগোপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এই নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজিত বিষয়সমূহ হচ্ছে:

ব্যাংকগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ১০ শতাংশ মৎস্য সম্পদ খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ।

ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদে ঋণ প্রদান; সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থায় ঋণ প্রদান, টার্কি পাখি পালনে ঋণ প্রদান।

পেন পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঋণ প্রদান; শস্য/ফসল খাতে ঋণ বিতরণের জন্য একর প্রতি ঋণ সীমা যৌক্তিক পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ; বেসরকারী ব্যাংকসমূহ কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে অনর্জিত লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ অথবা বিকল্পভাবে অনর্জিত লক্ষ্যমাত্রার ৩% হারে হিসাবায়নকৃত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। 

অনর্জিত লক্ষ্যমাত্রার ৩% হারে অর্থ জমা রাখলে পরবর্তী ২ অর্থবছরের মধ্যে বিগত অর্থবছর/অর্থবছরসমূহের অনর্জিত অর্থ সম্পূর্ণ/আংশিক বিতরণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ/আনুপাতিক হারে ফেরত প্রদান করা হবে; অন্যথায় উক্ত অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না।