
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও ভু্ট্টার দাম ঊর্ধ্বমুখি, দাম কমেছে সয়াবিনের। দীর্ঘদিনের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের লাগাম টেনেছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের বাজারে।
প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সই করেছে এ দু দেশ। এতে সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গম ও ভুট্টার সাপ্তাহিক গড় দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এ সময় সয়াবিনের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। খবর সিনহুয়া ও এগ্রিমানি। সূত্র বণিক বার্তা।
বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সিবিওটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে গমের গড় দাম বেড়েছে বুশেলপ্রতি (৬০ পাউন্ড) ১ দশমিক ১ শতাংশ।
এ সময় মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি বুশেল গমের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫ ডলার ৭ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বুশেলে ৬ সেন্ট বেশি। একইভাবে ভুট্টার সাপ্তাহিক গড় দামে দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে।
সর্বশেষ সপ্তাহে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি বুশেল ভুট্টার গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ ডলার ৮৯ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বুশেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫ সেন্ট বেশি।
শিকাগোভিত্তিক ট্রেডাররা জানান, বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে ওয়াশিংটন-বেইজিং চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। অবশেষে গত সপ্তাহে প্রথম পর্যায়ের চুক্তিতে উপনীত হতে পেরেছে দুই পক্ষ।
এ চুক্তির ফলে চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ও ভুট্টা রফতানি বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর জের ধরে মার্কিন মুলুকে কৃষিপণ্য দুটির বেচাকেনাও বাড়বে। এ সম্ভাবনা গত সপ্তাহে সিবিওটিতে গম ও ভুট্টার গড় দাম বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
একই সঙ্গে গত ডিসেম্বরে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পাদিত ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।
এ চুক্তি আগামী দিনগুলোয় প্রতিবেশী দেশ দুটিতে মার্কিন কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়াতে সহায়ক হবে। এ অনুমোদনের জের ধরে বেচাকেনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে গম ও ভুট্টার দাম।
তবে গম ও ভুট্টার দাম বাড়লেও বিদায়ী সপ্তাহে সিবিওটিতে সয়াবিনের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। এ সময় কৃষিপণ্যটির গড় দাম কমেছে বুশেলপ্রতি ১৬ দশমিক ২৫ সেন্ট।
সর্বশেষ সপ্তাহে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি বুশেল সয়াবিন বিক্রি হয়েছে গড়ে ৯ ডলার ৩০ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তি সই হলেও সয়াবিনের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। একসময় বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন আমদানিকারক চীনের বাজারে কৃষিপণ্যটির প্রধান জোগানদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
তবে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বাড়তি আমদানি শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি কমিয়ে দেয় চীন। একপর্যায়ে দুই দেশের সয়াবিন বাণিজ্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
চীনের সয়াবিন বাজারে বিকল্প উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্রাজিল। তুলনামূলক কম দামের কারণে ব্রাজিল থেকে কৃষিপণ্যটির আমদানি বাড়ায় চীনা আমদানিকারকরা। এখন চুক্তি সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে সয়াবিন আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ পরিস্থিতি সিবিওটিতে কৃষিপণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকিয়ে রেখেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও ভু্ট্টার দাম ঊর্ধ্বমুখি, দাম কমেছে সয়াবিনের সংবাদটির তথ্য বণিক বার্তা সংবাদ মাধ্যম হতে নেয়া হয়েছে। ছবি ইন্টারনেট।
























