নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে কবুতরের বাচ্চার কদর বেড়েছে। সেইসাথে চাহিদার সাথে সাথে তুলনামূলক দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসের তুলনায় প্রতিপিস বাচ্চায় কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য মাংসের দাম কমার কারণে কবুতরের বাচ্চার দামও কমেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন ২২) রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজিবাজারে গিয়ে দেখা যায়, কবুতরের বাচ্চার আমদানি বেশ ভালো। ক্রেতারা কিনছেন বেশ। করোনাকালে আগের কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে বাচ্চার দাম। তবে বর্তমানে কিছুটা দাম কমতির দিকে।

পড়তে পারেন: ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণ করে কারা, কেন ধরা খায় খামারিরা?

বিশেষজ্ঞদের মতে কবুতরের মাংস একটি ভালো খাদ্যের পাশাপাশি ভালো ওষুধও। এরে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কম চর্বি থাকায় এটি একটি ভালো পুষ্টিকর পরিপুরক। কবুতরের মাংস রক্তের লিপিড ও শর্করা বাড়ায় না। কবুতরের মাংসে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন । যা আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পুরনের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী। অস্ত্রপাচারের পর রোগীর ক্ষত পুনরুদ্ধার ও নিরাময়ে ভালো ভুমিকা পালন করে।

সাহেববাজারের পাইকারি মুরগি বিক্রেতা মো: আব্দুল গাফফার চৌধুরী এগ্রিকেয়ার২৪কমকে বলেন, বর্তমানে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুষ্টি ও প্রোটিনের উৎস হিসেবে কবুতরের বাচ্চা খাওয়ার দিকে নজর দিয়েছে অনেকে। করোনাকালে প্রতিপিস কবুতরের বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে উঠানামা করছে। ছোট বাচ্চার দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত নেমেছে।

পড়তে পারেন: কবুতরের বাচ্চা প্রথম ৭দিন দুধ পান করে বাবা-মায়ের কাছ থেকে

কবুতরের বাচ্চা আমদানি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবুতরের বাচ্চা আমাদের কিনতে হয়না। দোকানে নিয়ে এসে দিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ফোন করে দিয়ে যেতে বললে তারা দিয়ে যায়। কবুতর পালনকারীর সংখ্যা বর্তমানে বাড়ছে। ফলে বাচ্চার সংকট নেই।

আরেক ব্যবসায়ী মো: ইব্রাহিম হোসেন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, কোয়েলের বাচ্চা বিক্রির সাথে সাথে কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করছি। কোয়েলের বাচ্চার জোড়া ৫০ টাকা। আর কবুতরের ছোট বাচ্চা বিক্রি করছি ১২০ টাকা। আকারে বড় বাচ্চা ১৩০ টাকা। কেউ যদি কিনে নিয়ে জবাই করে পরিস্কার করে নিতে চায় তাহলে আরো ১০ টাকা দিতে হয়। মুরগি কেটে নিলেও ১০ টাকা দিতে হয়।

পড়তে পারেন: কবুতরের কৃমির লক্ষণ, তার চিকিৎসা

চাহিদার তুলনায় আমদানি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহীর উঠতি বয়সের তরুণরা বাড়ির ছাঁদে কবুতর পালন করছেন। যে পরিমাণ বাচ্চা উৎপাদন হয় তা সব পালন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তারা প্রতিমাসে বাচ্চা বিক্রি করেন। বাড়তি কিছু টাকা পকেটে আসে। বার মাসে ১৩ জোড়া বাচ্চা দিয়ে থাকে একটা মা কবুতর এমনটাই তো আমরা জানি।
গবেষণায় জানা গেছে, মধ্য বয়সী, বয়স্ক অসুস্থ, হাইপারলিপিডেমিয়া, কার্ডিওভাসকুলার এবং সেরিব্রোভাসকুলার রোগী, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কবুতরের মাংস বিশেষ উপকারি।

এছাড়া, কবুতরের মাংস পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং এতে থাকা পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের উন্নয়ন ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি আপনার স্কিন বা ত্বকের সতেজতা আনয়নে বেশ কার্যকরী। চাইনিজ চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে কবুতরের মাংস লিভারের উন্নতি সাধন ও কিডনি শক্তিশালী করে। এছাড়াও রক্ত পুষ্ট করে তোলে ও শরীরের অন্যনায় তরল উপাদানের মান উন্নয়নে ভুমিকা পালনকরে। যা আপনাকে দীর্ঘ স্থায়ী অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি দেয়।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ