
এগ্রিকেয়ার প্রতিবেদক: দেশে দুধের ঘাটতি রয়েছে, এটি অনেক পুরোনো কথা। নতুন বা আশার কথা হলো দুধের উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে, কমছে আমদানি। এছাড়া প্রতিদিন জনপ্রতি দুধ খাওয়ার পরিমাণও বাড়ছে।
প্রাণীসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, চার বছরের ব্যবধানে দুধের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১০-১১ অর্থ বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ লাখ মেট্রিক টন। আর ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৬৯ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়েছে।
এদিকে গত চার বছরের ব্যবধানে ১০০ কোটি টাকার বেশি দুধ আমদানি কমেছে । ২০১১ সালে এক হাজার ৭৪২ কোটি টাকার দুধ আমদানি হয়। আর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১১ কোটি টাকায়।
এ হিসাবের চিত্র তুলে ধরে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেন, পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে দুধের উৎপাদন বেড়েছে। বর্তমানে চাহিদার বিপরীতে যে ঘাটতি রয়েছে তা আগামীতে আরও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মেটানো সম্ভব।
কৃত্তিম প্রজনন বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগপোযোগী পদক্ষেপ আর দুধ উৎপাদনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ বাড়ার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনে আমাদের আরও পথ পারি দিতে হবে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী একজন মানুষের দুধের চাহিদার বিপরীতে দেশের মানুষ দুধ পান করতে পারতেন প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন ২৫০ মিলিলিটারের বিপরীতে এক সময়ে প্রায় ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিলিটার পান করার সুযোগ পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন ১২৫ মিলিলিটার পান করা যাচ্ছে। এ হিসাবে দুধের ঘাটতিও অনেক কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে শতকরা ৫ ভাগ সুদে ঋণ কর্মসূচিও দুধ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে একদিকে তৃণমূল পর্যায়ের খামারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে বাড়বে দুধের উৎপাদন।
তবে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, অনেক সময়ে জামানত নিয়ে ব্যাংকগুলো তৃণমূল খামারিদের হয়রানি করে থাকে। এতে খামারিরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। আর তৃণমূল খামারিরা এগিয়ে না আসলে দেশে দুধ উৎপাদন দ্রুত গতিতে বাড়বে না।
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মেদপুর এলাকার খামারি রাজ্জাক মিয়া গত দুই বছর ধরে দুগ্ধজাত গাভী পালন করছেন। বছরে প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ বাজারে সরবরাহ করে থাকেন।
তিনি জানান, দুধের বাজারজাত ব্যবস্থাপনা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে এতে আরও অনেকে এগিয়ে আসবেন। ফলে দুধের উৎপাদনও বাড়বে। এছাড়া প্রাণী চিকিৎসায় আরও ভালো ভূমিকা পালন করার আহ্বানও জানান এ খামারি।
দুধ ব্যবসায়ী আফসার আলী জানান, দুধ উৎপাদনের বৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভালো ভূমিকা রাখছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খুবই সামান্য। তাই এতে যেন নতুন উদ্যেক্তা অনেক বেশি আগ্রহ দেখান সেই বিষয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের নজর দেয়া উচিত। তবেই দুধ উৎপাদনে আরও এগিয়ে যাবে দেশ।
























