নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কৃষি মন্ত্রণালয়ের আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা নিবিড়ভাবে বাজার মনিটর করছি, কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় কৃষি সচিব এ তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় পেঁয়াজ আমদানির প্রসঙ্গে কৃষি সচিব বলেন, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে থাকি। এখন পর্যন্ত কৃষক পেঁয়াজের ভাল দাম পাচ্ছে। অন্যদিকে সামনে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। এই সময়ে পেঁয়াজের দাম যাতে না বাড়ে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

এ সময়ে তিনি বলেন, আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে আমরা নিবিড়ভাবে বাজার মনিটর করছি, কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে জমি থেকে কৃষকেরা পেঁয়াজ সংগ্রহ শুরু করেছেন। এ সময়ে পেঁয়াজ আমদানি হলে কৃষকেরা তাদের ন্যায্য দাম পাবেন না বলে অভিযোগ করছেন। কৃষকদের দাবি, তারা অনেক কষ্ট করে পেঁয়াজ উৎপাদন করছেন। এরপরেও যদি তারা ন্যায্য দাম না পান তাহলে তা দু:খজনক হবে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ও চাহিদা: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞানীরা জানান, বারি-৫ পেঁয়াজ আগাম ও নাবি খরিপ মৌসুমে আবাদ উপযোগী। এটি স্বল্পমেয়াদি গ্রীষ্মকালীন হলেও সারা বছর চাষের উপযোগী উচ্চ ফলনশীল জাত। তাঁরা আরও জানান, দেশে পেঁয়াজের হেক্টরপ্রতি জাতীয় গড় ফলন ১০ দশমিক ৫৬ টন হলেও বারি পেঁয়াজ-৫ হেক্টরপ্রতি ১৬-২২ টন উৎপাদিত হয়। এই জাতের পেঁয়াজ চাষ হলে আমাদের দেশ একদিন পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।

কৃষি গবেষণা জানায়, ‘প্রতি বছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫-৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। গত এক বছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আট লাখ মেট্রিক টনে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, দেশের কৃষকরা নতুন জাতের পেঁয়াজ সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে পেঁয়াজ উৎপাদনে খুব শিগগিরই আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশে এতো পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও কেন ধারাবাহিকবাবে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। নইলে হঠাৎ করে কেন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে। আর এরপরেই পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা নেই এমন বার্তায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলেন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: কোরবানি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি চেয়ে চিঠি

সভায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম কৃষি জমিতে সেচ দিতে গাফলতির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ার দিয়ে বলেন, কৃষি জমিতে সেচের ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর পুলিশও তদন্ত করছে, তারা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে রাজশাহীতে সেচের পানি না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা’র বিষয়ে কৃষি সচিব জানান, এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করার জন্য গত রবিবার (২৭ মার্চ) চার সদস্যের ‘তদন্ত কমিটি’ গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৭৭টি। মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০%, যা জাতীয় গড় অগ্রগতিরে চেয়ে ৫% বেশি। এ সময়ে জাতীয় গড় অগ্রগতি হয়েছে ৩৫%। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান ও প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সেচের পানি দিতে গাফিলতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা খুব দ্রুত কার্যকর করা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।