
আবু খালিদ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: উৎপাদন খরচের চেযে কেজিপ্রতি ৫টাকা কম দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করে অনেকটা হতবম্ব হয়ে কারও সাথে কথা বলছেন না খামারি আছাদ মিয়া। নিজের পরিশ্রমের পারিশ্রমিক বাদই দিয়েছেন।
দেড় হাজার ব্রয়লার মুরগির খামারের আয় দিয়ে চলে তার সংসার। টানা ৩৫ দিন পরিশ্রমের পর একদিকে লোকসানের বোঝা অপরদিকে সংসারের খরচের দু:শ্চিন্তা। সবমিলিয়ে যেন অসহায়ত্বটা আর ধরে রাখতে পারছেন না তিনি। পাশে তার কেউ নেই।
নাটোর জেলার খামারি আছাদ মিয়ার এমন করুণ দৃশ্যের দেখা মিলে গত অক্টোবর মাসে। খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেলো তার মতো অনেক খামারি রয়েছেন যাদের দিন যত যাচ্ছে ততই লোকসানের বোঝা ভারি হচ্ছে।
পাশে দাঁড়ানোর কাউকে না পেয়ে পোল্ট্রি খামারিদের মাঝে অসহায়ত্বের চিত্র করুণভাবে ফুটে ওঠছে। ব্রয়লার খামারিদের প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন?
আছাদ মিয়া জানান, তার পরিচিত যারা ব্রয়লার মুরগি পালন করছে তাদের সবারই একই অবস্থা। কিছুদিন আগে লেয়ার খামারিদের অবস্থাও ভালো ছিলো না। তাহলে কী তারা এ পেশা থেকে বেরিয়ে যাবেন? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে।
তৃণমূল থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিদের এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় দেশের বড় পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের সাথে। উদ্যোক্তাদের পরামর্শ খামারিদের ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই। এখন পথ একটাই খোলা তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
রাজশাহীর পোল্ট্রি উদ্যোক্তা জয়নাল আবেদীন জানান, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার, দাবি তুলে ধরতে হবে। তারা কী কী সমস্যায় পরছে সেগুলো তুলে না ধরলে কেউ তাদের নিয়ে কথা বলবেন না। তাদের সমস্যার সমাধানও হবে না।
ঐক্যবদ্ধ হলেই যে আন্দোলন করতে হবে এমন বিষয় না উল্লেখ করে পোল্ট্রি খামারি আলাল শেখ বলেন, অনেক বিষয় আছে যেগুলো জানা শোনা থাকলে একজন খামারি উৎপাদন খরচ কমের মধ্যে রেখে উৎপাদন করতে পারবেন। একজন আরেকজনের মাধ্যমে শিখতে পারবেন। এজন্যে দরকার একটা প্লাটফর্ম।
তথ্য আদান প্রদানের অনেক দূরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন পোল্ট্রি খামারি আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, পোল্ট্রি পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা অনেকেরই নেই। সেই ধারণাও এই ঐক্যবদ্ধতার মধ্যে থেকে তারা পেতে পারেন। বায়োসিকিউরিটি, নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা এর সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আলী ইমাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, খামারিদের স্বার্থে দীর্ঘসময় টিকে থাকতে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবার মাঝে ভালো সমন্বয় রাখতে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। যেন সবাই সেখানে কথা বলার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, তাদের নিজস্ব একটি আইডিন্টি থাকতে হবে। এতে সেন্ট্রালের সাথে একটি লিঁয়াজো বা সমন্বয় করা সহজ হবে। আমরাও তাদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবো।
প্রসঙ্গত, গত ২৪, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পোল্ট্রি খামারিদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিন জেলার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও বিপিআইসিসি’র সহযোগিতায় ওই তিন জেলায় পোল্ট্রি খামারিদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি গঠনের সংবাদ প্রকাশের পর সারাদেশের খামারিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। খামারিরা প্রতিবেদনের নিচে ঐক্যবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
খামারিদের মন্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সারাদেশের খামারিরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি একটা প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে নিজেদের কথা বলতে চান।
























