
এগ্রিকেয়ার২৪.কম ডেস্ক: হরলিক্স মানুষের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গাছেরও প্রাণ আছে। খাদ্য খায়। তাই গাছের সুস্বাস্থ্য আর পুষ্টির প্রয়োজন। এই নিশ্চয়তা দেয় সরিষার খৈল। কারণ সরিষা খৈল গাছের জন্য হরলিক্সের মতো কাজ করে। বাড়িতেই সহযেই তৈরি করা ‘গাছের হরলিক্স’ দিয়ে গাছের প্রাণ রক্ষা করতে পারেন।
সরিষা থেকে তেল নিষ্কাশনের পর প্রাপ্ত অবশিষ্টাংশ হলো সরিষার খৈল। এ বর্জ্যকেই জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃষিবিদরা বলছে, সরিষার খৈল গুল্ম উদ্ভিদের জন্য বিশেষ করে ফল, ফুল এবং সবজি গাছের জন্য উৎকৃষ্ট জৈব সার।
পড়তে পারেন: ছাদ বাগানে টবে চাষ করুন ড্রাগন ফল
মাটিতে এই সরিষার খৈল ব্যবহার করতে প্রথমে একে গুঁড়ো করে নিন। এরপর এর সঙ্গে মিশান চায়ের ব্যবহার করা লিকার। ছোট গাছের মূল থেকে ৩০ সেমি আর বড় গাছের ক্ষেত্রে ৬০ সেমি দূরত্বে ১ চামচ সরিষার খৈল প্রয়োগ করুন।
সরাসরি সরিষার খৈল গুঁড়ো গাছের মূলে ব্যবহার করতে না চাইলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সরিষার খৈলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন সমপরিমাণ মাটির গুঁড়ো ও চায়ের লিকার। এই প্রক্রিয়ায় জৈব সার তৈরি করে তা গাছেরর মূলে ব্যবহার করুন প্রতিমাসে একবার। তাহলেই আপনার গাছ থাকবে সুরক্ষিত ও সতেজ।
পড়তে পারেন: টবে হবে আপনার পছন্দের আম, জানুন পদ্ধতি
টবে বেগুন চাষ পদ্ধতি
যার নাই কোন গুন, তার নাম বেগুন। আসলে এমন কথা প্রচলিত থাকলেও বেগুন আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি সবজি। পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও বিবেচিত। সৌখিন মানুষেরা বাড়ির বারন্দায় কিংবা ছাঁদে টবে চাষ করতে পারেন বেগুন।
প্রথমেই জেনে নিতে হবে বেগুনের ভালো ফলন কোন ধরনের মাটিতে হয়। সাধারণত দেখা যায়, পলি দোআঁশ মাটি ও এটেঁল দোআঁশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। ১০-১২ ইঞ্চি ব্যাসের মাটির টব, প্লাস্টিকের গামলা অথবা অর্ধেক করে কেটে নেওয়া প্লাস্টিকের ড্রামও ব্যবহার করা যেতে পারে। মাটি তৈরির সময় সমান পরিমাণে এঁটেল দোআঁশ বা পলি-দোআঁশ মাটি নিতে হবে। জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে।
পড়তে পারেন: বেগুন গাছের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনের উপায়
মাটি তৈরি হয়ে গেলে তা ১০-১২ দিন ধরে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর আবার মাটি খুঁচিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন হাটে-বাজারে বা শহরের নার্সারিতে বেগুনের চারা কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে বেগুনের চারা সংগ্রহ করা যেতে পারে।
তা হলে বীজ কিনে এনে ভালো করে শোধন করার পর ছয় ঘণ্টার মতো ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। বালি, কমপোস্ট ও মাটি সমপরিমাণে মিশিয়ে বীজ বপনের জন্য উপযুক্ত মাটি তৈরি করতে হয়। বীজ বপনের পর মাসখানেকের মধ্যেই চারা টবে লাগানোর উপযুক্ত হয়ে যায়।
চারা তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শিকড়ের ক্ষতি না হয়। শিকড়ের সঙ্গে কিছুটা মাটি রেখে চারা স্থানান্তর করতে হবে। বেগুনে রোগবালাই এবং পোকার আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। যে কারণে বেগুন চাষে কিছুটা সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করতে হয়। লক্ষণ দেখা দিলেই কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়।
পড়তে পারেন: একেকটি বেগুন ২ কেজি, নাম দিয়েছেন “লাউবেগুন”
গোড়া পচা, ঢলেপড়া রোগ ও খাটো আকৃতির পাতা রোগ দমনে নার্সারি থেকে উপযুক্ত ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকনাশক কিনে স্প্রে করতে হয়। ফল ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, মেলিবাগ, বিটল, সাদা মাছি ও জেসিড, মাজরা পোকা দমনেও কীটনাশক স্প্রে করা দরকার।
বেগুন গাছের বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে হয়। দুর্বল হওয়ার কারণে গাছ সোজা রাখার জন্য কাঠি বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। বৃদ্ধি অব্য়াহত রাখতে সার প্রয়োগের পাশাপাশি মাঝে মাঝে গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হয়।
গাছের বয়স বাড়লে গোড়ার দিক থেকে ২০ সেন্টিমিটার রেখে উপরের অংশ ছেঁটে দিলে কেটে দেওয়া অংশ থেকে নতুন শাখা-প্রশাখা বের হয়। সেখানেও বেগুন আগের মতো বেগুন ধরবে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























