
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি মৌসুমে রেকর্ড গম উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন বাড়ার এ পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটি। এদিকে গমের পাশাপাশি ক্যানোলা উৎপাদন বাড়ারও পূর্বাভাস মিলেছে।
ইয়াহু নিউজের বরাতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম রফতানিকারক। এ বছর দেশটিতে কৃষিপণ্য রফতানি আয় গত দশকের তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে।
সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা ২০২২-২৩ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ২২ লাখ টন গম উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত বছরের ৩ কোটি ৬৬ লাখ টনের চেয়ে কিছু কম। অর্থাৎ এ বছর দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
পড়তে পারেন: ৪৩০ ডলারে গম কিনছে সরকার
এদিকে গম উৎপাদন বাড়ায় ২০২২-২৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার কৃষিপণ্য রফতানি আয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে। সরকারি সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববাজারে ২ কোটি ৫৮ লাখ টন গম সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। গত মৌসুমে সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ টন।
এদিকে গমের সংকটে বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্যশস্য ও সার কিনছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের ২৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে ডলার দিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্যশস্য ও সার আমদানি করতে পারব, এ ধরনের আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
পড়তে পারেন: ভারত থেকে গম আমদানি শুরু, আসবে হাজার টন
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুদ ছিল। ভারত রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে কিছু দরপত্র বাতিল করতে হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ক্রেমলিনের অভিযান শুরুর পর রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর ব্যাংকিং লেনদেনসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে ঋণপত্র খোলা, পণ্যের চালানের নিশ্চয়তা পাওয়ার মতো বিষয়গুলো ঝুলে ছিল। এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার কারণে লেনদেনের ধরন নিয়েও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচল এখনো নিরাপদ ছিল না। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার কৃষি ও খাদ্যপণ্য আমদানি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























