ডেস্ক প্রতিবেদন,এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভারতীয় বাসমতি চালের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক ইরান। ভারত থেকে রফতানি হওয়া বাসমতি চালের ৩৪ শতাংশের গন্তব্য ইরান। দেশটির বন্দর থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি মূল্যের ভারতীয় বাসমতি চাল আটকে আছে। খালাস হচ্ছে না এসব চাল। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চালের মূল্য পরিশোধের জন্য দেশটির স্থানীয় ক্রেতাদের মুদ্রা বরাদ্দ দিচ্ছে না বলে আটকে আছে এ পণ্য। খবর ইকোনমিক টাইমস।

এছাড়াও, এসব চালের মূল্য আদায়ে ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন রফতানিকারকরা। তাই তারা ইরান থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে সহায়তার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করে ইকোনমিক টাইমস।

ভারতীয় রফতানিকারকদের অভিযোগে, ইরানে পণ্য রফতানিতে স্বচ্ছ কোনো পদ্ধতি নেই। চাল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সাপল টেক ইন্ডাস্ট্রিজের সিইও জয় কুমার গুপ্ত বলেন, দু-তিন মাস ধরে আমরা পাওনা পাচ্ছি না। বর্তমানে আমরা শুনছি, ইরানের বন্দর আব্বাসের যেসব চালান আটকে আছে তা পরিষ্কার করা হবে এবং আমরা আমাদের পাওনা পেয়ে যাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি। তিনি বলেন, অগ্রিম মূল্য পরিশোধ বা ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতেই কেবল দেশটিতে পণ্য রফতানি করতে দেয়া উচিত।

হরিয়ানার কারনালভিত্তিক এক রফতানিকারক বলেন, কিছু কিছু রফতানিকারক পাঁচ মাস ধরে ইরানে পাঠানো চালানের বিপরীতে অর্থ পেতে সমস্যার মোকাবেলা করছেন।

অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক বিনোদ কৌল বলেন, ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি মূল্যের আড়াই লাখ টনের বেশি বাসমতি চাল কয়েক মাস ধরে ইরানি বন্দরে আটকে আছে। এ সমস্যা নিরসন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।

শ্রী জগদাম্বা এগ্রিকো এক্সপোর্টেসের সতীশ গয়েল বলেন, ইউসিও ব্যাংক ও আইডিবিআই ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৫-৬ হাজার কোটি রুপি জমা থাকতে পারে, যা ভারত ও ইরানের বাণিজ্যের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থ লেনদেনের আরো একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা নতুন করে কোনো ক্রয়াদেশ নিচ্ছি না। কারণ সময়মতো মূল্য পাওয়া নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তৃতীয় প্রান্তিকে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

ইরান বন্দরে খালাস হচ্ছে না ১৭০০ রুপির ভারতীয় বাসমতি চাল শিরোনামে সংবাদের তথ্য বণিক বার্তা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।