ছবি: এগ্রিকেয়ার২৪.কম

মেহেদী হাসান, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শিক্ষার্থী বাসায় অবস্থান করছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। মজুদ চালের বিক্রি হলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে হারে চাল আমদানি ও বিক্রি হয়েছে তা এখন বন্ধ আছে। ক্রেতা নেই বাজারে, অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষা নগরী রাজশাহীতেও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বাজার হওয়ায় এমন ধকল সহ্য করতে হচ্ছে বলে জানান চাল ব্যবসায়ীরা।

নগরীতে চালের বাজার মন্দার অন্যতম কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালের লাখ লাখ শিক্ষার্থী বাসায় অবস্থান করছে । অন্যান্য বাজারের মতো চালের চাহিদাও কমে গেছে। সেইসাথে স্থানীয়রা একসাথে কয়েক মাসের চাল কিনে বাসায় মজুদ রাখছেন। নিয়মিত ক্রেতা না আসায় একটা গ্যাপ পড়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

আজ মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০ রাজশাহীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, চাল ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। চালের বিক্রি কমেছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা ছাড়া বাজারে আসছেন না কেউই।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, চালের দাম দু- এক টাকা বেড়েছে। আমি ৩ মাস আগে চাল কিনেছিলাম ৪ বস্তা, সেটা দিয়েই চলছিল। আজ কয়েক বস্তা আঠাশ চাল কিনব। করোনায় বাজারে আসা টিক হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন এই ক্রেতা।
রাজশাহীর সাহেব বাজার এলাকার সুস্ময় চাইল ভান্ডরের খুচরা ব্যবসায়ী বিনোদ গুপ্ত এগ্রিকেয়ার২৪. কমকে বলেন, আমাদের ব্যবসা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। এখন বেঁচা-বিক্রি একদমই নেই। সারাদিন বসে থেকে খরচের টাকাই ওঠে না। স্কুল কলেজ খুললে আবার ব্যবসা চালু হবে আশা করছি।

আরোও পড়ুন: সবজি মুদি দোকানিদের করোনা পরীক্ষার নির্দেশ

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহীতে ৬৩ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের আবাদ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ২৭ টন।

নগরীর সাহেব বাজারের এপি চাউল ভান্ডারের মিলন প্রসাদ এগ্রিকেয়ার২৪.কম কে বলেন, চালের মধ্যে আঠাশ চালের দাম একটু বেড়েছে। এছাড়াও গুটি স্বর্ণাও দাম বেড়েছে। স্বর্ণা চাল ৩৮- ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৪০ এর উপরে দাম। পুরাতন আঠাশ চাল ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৪-৬ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আরেক চাল ব্যবসায়ী সুশীল চাউল ভান্ডারের মালিক সুশীল কুমার বলেন, আমাদের ব্যবসা মূলত শিক্ষার্থীদের কাছে। রাজশাহী ফাঁকা। ছাত্র- ছাত্রীরা বাসায় চলে গেছে। আমাদের বেঁচা- কেনা আগের মতো নেই। চালের দাম বেড়েছে ৩-৪ টাকা করে।

নগরীতে, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজশাহীর বাজারে দফায় দফায় বেড়েছে চালের দাম। পুরাতন আঠাশ চাল ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৪-৬ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দু- এক টাকা করে বৃদ্ধি পেয়ে শরনা ৪৬, জিরাশাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও বাসমতি ৬০ টাকা, পায়জাম ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৬০, কাটারিভোগ সিদ্ধ ৭৫ টাকা, কাজললতা ৬৫, কালোজিরা ৯০, চিনিগুঁড়া আতপ ৯৫, রাধুনি ৮০, মোটা আতপ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

শিক্ষার্থী না থাকায় রাজশাহীর চালের বাজারে মন্দা বেশিদিন থাকবে না বলেও আশায় বুক বাঁধছেন সব ধরণের ব্যবসায়ীরা। করোনা মহামারি পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর অপেক্ষায় দিন পার করছেন খুচরা ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা।