দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব কলা নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: টিবিএস

ডেস্ক প্রতিবেদন, এগিকেয়ার২৪.কম: পাহাড়ি এলাকা রাঙামাটি জেলায় বছরে কীটনাশক ছাড়াই ৩০০ কোটি টাকার কলা উৎপাদন হয়। এ বিপুল পরিমান কলা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্যেশ্যে পাঠানো হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাঙামাটিতে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কলা কেনা-বেচা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ জেলার ১১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর এলাকায় কলার আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টন। গত অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ১১ হাজার ২৪৫ টন। আবাদকৃত এলাকা ছিল ১১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী পাওয়া যায়, বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে কলা পাওয়া যায় বেশি। সাধারণত পাহাড়ে দুই জাতের কলা বেশি দেখা যায়। একটি বাংলা কলা। রাঙামাটির স্থানীয় ভাষায় এর নাম কাত্তলি কলা। অন্যটি চাপা কলা, যার স্থানীয় নাম চম্পা কলা। উঁচু পাহাড়ের মাটিতে জন্মায় বলে এগুলোকে পাহাড়ি কলাও বলা হয়।

প্রতিবছরের ন্যায় এসব কলা নিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা ভিড় করেন পাহাড়ের কলা বাজারগুলোতে। কারণ পাহাড়ে মাটিভেদে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়। এ এলাকায় কলা আবাদে কীটনাশক ব্যবহার হয় না বললেই চলে। আবার পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় চাপা কলার চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয় বাংলা কলা। লাভ বেশি হওয়ায় ব্যাবসায়ীদের এক প্রকার ঝোঁক থাকে।

জেলা শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাট কলাহাটে কুমিল্লা থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. জামাল (৪৫) জানান, সমতল এলাকায় এসব পাহাড়ি কলার চাহিদা বেশি। সারা বছর তিনি রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় কলা নিয়ে যাই। ‘প্রতি বছর কলার দাম বাড়ে। এ বছরও বেড়েছে। প্রতি ছড়া (কমপক্ষে ১০০ পিস) কলা মানভেদে ১০০ থেকে ২ হাজার টাকায় কিনেছি। কিছু কিছু এলাকার কলার ছড়া এত বড় হয়, সেগুলো ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়।’

আরোও পড়ুন: যেভাবে কলা চাষে শতভাগ সফলতা আসে

কলার সিগাটোকা রোগের লক্ষণ ও দমন পদ্ধতি

উপকারি ফল কলার গুনাগুন

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘সমতল এলাকার কলা আর পাহাড়ের কলার মধ্যে পার্থক্য অনেক। রাঙামাটি থেকে কলা নিয়ে বাজারে বসে থাকতে হয় না। এগুলো সবাই লুফে নেয়।’

বাঘাইছড়ি মারিশ্যায় চুক্তিভিত্তিক ২ লাখ টাকার বাগান পরিচর্যা করে এ বছর ৬ লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন চাষী মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮) । কলাচাষে বেশ লাভবান হওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল বলেন, ‘পাহাড়ে মাটিভেদে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়। এ এলাকায় কলা আবাদে কীটনাশক ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কলা এমনিতেই পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। তার ওপর বালাইনাশক ব্যবহার না হওয়ায় এ এলাকার কলা পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব কলার চামড়া মোটা হয়। তাই পরিবহনে তেমন অসুবিধা হয় না। এ জাতের কলা বারো মাস ফলন দেয়। তাই কৃষকরা সারাবছর এ কলা আবাদ করে আয় করতে পারেন। স্বাদ বেশি ও রসালো বলে এ কলার বাজারমূল্য বেশি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, ‘চাপা ও বাংলা কলা পাহাড়ের মাটিতে ভালো হয়। সমতল বা স্যাঁতস্যাতে মাটিতে এগুলোর ফলন হয় না। পাহাড়ের মাটিতে এসব কলা আপনাআপনি বেড়ে ওঠে। তেমন পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কলা চারার আশপাশে জঙ্গল পরিষ্কারসহ মরা পাতা ও অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলে দিলেই হয়।’

কীটনাশক ছাড়াই ৩০০ কোটি টাকার কলা উৎপাদন পাহাড়ে শিরোনামে সংবাদের তথ্য দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড থেকে নেওয়া হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ