
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা অঞ্চলে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আর এসব ডাকাতি করে আনা গরু দিয়ে আশুলিয়ার দক্ষিণ নাল্লাপপাল্লা গ্রামে ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলেছেন মরণ দাস ওরফে সুমন ওরফে তাপস (৩৫)। পরে কোরবানিসহ বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি করা হতো এসব গরু। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পড়েছেন ধরা!
এসময় ডাকাতি করা ৪১টি গরুসহ গরু বিক্রির টাকা এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। গরুর খামারের ব্যবসার আড়ালে তারা গরু ডাকাতি করে বিক্রি করতো।
মঙ্গলবার জিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মো: জাকির হাসান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দিনাজপুরের আমবাড়ী হাট থেকে সাতটি গাভী, দুইটি বকনা বাছুর ও পাঁচটি ষাঁড়সহ মোট ১৪টি গরু কিনে ট্রাকে করে ফিরছিলেন কুমিল্লার ব্যবসায়ী ছাদেক (৫৮) ও তার ছেলে রাকিব (২২)। পথে রাত দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মোজারমিল এলাকায় পৌঁছলে একটি মাইক্রোবাস এসে গরুবাহী ওই ট্রাকের গতিরোধ করে। পরে ৭/৮ জন যুবক মাইক্রোবাস থেকে লাঠি নিয়ে বের হয়ে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ছাদেক ও রাকিবকে চোখ-মুখ, হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে সাভারের গেন্ডা এলাকায় গিয়ে গরুগুলো ডাকাতদের ট্রাকে তুলে নেয় এবং বাবা-ছেলেকে তাদের ভাড়া করা ট্রাকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
পড়তে পারেন: ব্রোডি গেমের ২টি থেকে ৩০০টি গরুর খামার যেখাবে
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো- টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার পাইশানা এলাকার মৃত পানু চানু বাদ্যকরের ছেলে খামারের মালিক ডাকাত সর্দার মরন দাস ওরফে সুমন ওরফে তাপস (৩৫), রংপুরের কাউনিয়া থানার নিজপাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে আসাদুজ্জামান বাবু (৩০), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাগুটিয়া চরকাটারিপাড়া এলাকার সুকচান মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০), বগুড়ার ধনুট থানার বামন নগর এলাকার মৃত রাজিব জামানের ছেলে আব্দুল মালেক (৪০), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাগুটিয়া এলাকার মৃত প্রদীপ রাজবংশীর ছেলে দূর্জয় রাজবংশী জাইল্লা (২৮), ঢাকার আগুলিয়া থানার চাকোলগ্রাম এলাকার আব্দুল করিম সদ্দারের ছেলে আল-আমীন (২৯)। গ্রেফতারকৃতরা গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর, বাংলাবাজার ও ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় বসবাস করত।
এ ব্যাপারে কাশিমপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপংকর রায়সহ থানার কয়েক কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
পড়তে পারেন: চাকরি ছেড়ে গরুর খামারি, মাসিক আয় দেড় লাখ টাকা
পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে জিরানী বাজার হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকের সহযোগী রাজ্জাক দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ডাকাত সর্দার সুমনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়।
এক পর্যায়ে মামলার বাদিকে জানানো হলে তিনি তার ক্রয় করা চারটি গাভী, দুটি বাছুর এবং পাঁচটি ষাঁড়সহ ১১টি গরু শনাক্ত করেন। পরে সুমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০ টাকা জব্দ এবং তার দেয়া তথ্যে অপর পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গরুর খামারের ব্যবসার আড়ালে তারা গরু ডাকাতি করে বিক্রি করতো।
উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান আরো জানান, ডাকাতির গরু আটকের খবর পেয়ে জিএমপির গাছা থানার চারটি গরু চুরি যাওয়া মামলার বাদি বগুড়ার আসাদ ওই খামারে গিয়ে তার চুরি হওয়া চারটি গরু থেকে দুটি গরু শনাক্ত করেন।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























