ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Home / প্রচ্ছদ / নারী কৃষি শ্রমিকের বৈষম্যের শিকল ভাঙ্গবে কবে?

নারী কৃষি শ্রমিকের বৈষম্যের শিকল ভাঙ্গবে কবে?

আব্দুল বাতেন; রাজশাহী  প্রতিনিধি, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:  কবি বলেছেন, হাতে রুটি পায়ে মল, মাথার ঘোমটা ছিড়ে ফেল নারী, ভেঙ্গে ফেল ও শিকল, যে ঘোমটা তোমায় করিয়াছে ভীরু ওড়াও সে আবরণ, দূর করে দাও দাসীর চিহৃ যত আভরণ’।

এই নারীরা ঠিকই চিহ্ন দূর করে কাধে তুলে নিয়েছেন পরিশ্রমের বোঝা। কিন্ত কৃষি জমিতে নারী শ্রমিকদের অবহেলা আর বৈষম্য যেন দূর হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২০ মার্চ) বিকেল বেলায় গোদাগাড়ী সদর ইউনিয়নের ঝিকড়–পাড়া গ্রামের মেঠো সবুজ বাংলার পথ দিয়ে আসতে চোখে পড়লো একদল নারী আলুর ক্ষেতে আলু উত্তোলন বস্তা ভরার কাজে ব্যস্ত।

জমি হতে আলু বাছাই ও বস্তা ভর্তির কাজে ব্যস্ত আইহাই রাহী গ্রামের নারী শ্রমিক হাসিনা (৪৫) বলেন, সকাল ৮ টা হতে সন্ধ্য পর্যন্ত কাজ করি। আর এত কাজ করে মাত্র ১৬০ টাকার মজুরি পাই। আর ছেলেরা পায় ৩০০ টাকা।

কম বেশী কাজ করেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ছেলেদের চাইতে কম না বরং বেশীই কাজ করি তবুও আমরা মেয়ে বলে কম মজুরী পাই। হাসিনার সাথে উপস্থিত সকল নারী জোর কণ্ঠে একই কথা জানালেন।

তারা বলেন, আমরা বেশী কাজ করে যুগযুগ ধরে এমন বৈষ্যম্যের শিকার হয়ে আসছি। গরীর মানুষ স্বামীর পাশাপশি আমার কাজ করি ঘরে সুখ আনার জন্য কাজ করি। সব মেনেই আমাদের অল্প টাকায় কাজ করতে হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে মহাজন কাজে নিবে না।

একই গ্রামের আমেনা বেগম (৫০) বলেন, আমরা প্রতি নিয়ত পুরুষের পাশাপশি সমান তালে কাজ করি। শুধু আলু তোলা নয়। ধান লাগানো, কাটা, মাড়াই কাজ করি তবুও পুরুষ শ্রমিক পায় আমাদের চাইতে ডবল বেতন। অভাবের সংসার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া আর সংসারের খরচ যোগাতে এভাবেই কাজ করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

পাশেই বসে কাজ করছিলো অল্পবয়সী নারী শ্রমিক ঝিকড় পাড়া গ্রামের আদিবাসী অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিথি রানী ( ১২) । সে জানায়, তার বাবা রঘুনাথ গরীব মানুষ অন্যর জমিতে কাজ করে সংসার চালান। সেসহ অন্য ভাইবোন লেখাপড়া করে।

বাবা মার পক্ষে লেখাপড়া, সংসার খরচ চালানো মোটেই সম্ভব না। তাই মাঝে মাঝে অন্যর জমিতে কাজ করে লেখাপড়া খরচ যোগাতে হয়। সে বলে সকাল ৮ টা হতে আমরা দুপুর পর্যন্ত একটানা কাজ করি। দুপুর খাবার বিরতি দিয়ে ৩ টার দিকে কাজ শুরু করে সন্ধ্যা গড়িয়ে কাজ করে মাত্র ১৬০ টাকা দেন মালিক। বয়সে কম হলেও সবার সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে এরা।

পাশেই কাজ করছিলো পুরুষ শ্রমিক বাসিরুল ও পলাশ। প্রশ্ন করা হয়েছিলো আপনাদের চাইতে কি নারীরা কম কাজ করে তার জন্যই কি কম মজুরী? মুচকি হেসে বললো কম কাজ করে এটা বলা যাবে না। তবে কেন কম মজুরী পাই এর উত্তর না দিয়েই নিরব থাকলেন তারা।

আইহাই রাহীর গ্রামের জমির মালিক সৈয়দ আলী রনির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এই বছর ২০ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও কাজ করে।

পুরুষ শ্রমিকের মজুরী বেশী আর নারীদের অর্ধেক মজুরী কেন প্রশ্নের উত্তরে রনি বলেন, এই সময়ে মেয়েদের অন্যকোন কাজ না থাকাই ঘরে বসে থাকে। তাই তাদের ডেকে অল্প মজুরিতে কাজ করাতে সুবিধা হয়। এর চাইতে আর কিছু বলতে রাজি হয় নি।

About এগ্রিকেয়ার২৪.কম

Check Also

ছবিতে ব্রি’র বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০১৭-১৮’র কর্মযজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০১৭-১৮ শুরু হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Show Buttons
Hide Buttons
স্বত্ব © এগ্রিকেয়ার টোয়েন্টিফোর.কম
উপদেষ্টা সম্পাদক: কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। প্রধান প্রতিবেদক: আবু খালিদ
যোগাযোগ: জিপি-জ-১১০, চতুর্থ তলা, মহাখালী ওয়ারলেস গেট, ঢাকা-১২১২
ইমেইল:Email: agricarenews@gmail.com
মোবাইলঃ 01731639255, 01717622842