পেঁয়াজের ঊর্ধমুখি দামে আন্তর্জাতিক

অর্থ বাণিজ্য ডেস, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পেঁয়াজের ঊর্ধমুখি দামে আন্তর্জাতিক রেকর্ড বাংলাদেশ’র। আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা ঊর্ধমুখি। গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে গড়ে সাড়ে ১১ শতাংশ। আর এক মাসে বেড়েছে সাড়ে ৫ ও এক সপ্তাহে আড়াই শতাংশের মতো।

তবে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে বাংলাদেশে পণ্যটির দাম বেড়েছে। গত এক বছরে ৩৫২ ও এক মাসে ৬৪ শতাংশ বেড়ে দেশে পাইকারিতেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৭০ টাকায় (২ ডলার), যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। সূত্র: বণিক বার্তা।



বলা হচ্ছে, পেঁয়াজের বাজার নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে থাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস ট্রিজ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজের গড় পাইকারি মূল্য ছিল ৬৮ সেন্ট বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫৮ টাকা।

পেঁয়াজ উৎপাদন ও ব্যবহারকারী শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর বাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভারতে গতকাল পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬২ সেন্ট, চীনে ২৮ সেন্ট, পাকিস্তানে ৩৯ সেন্ট, মেক্সিকোয় ১ ডলার ২১ সেন্ট ও তুরস্কে ১৪ সেন্টে। এর বাইরে ব্রাজিলে ৪০, মিসরে ১৭ ও স্পেনে ৩১ সেন্ট কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

তবে ইন্দোনেশিয়ায় গতকাল পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম এক পর্যায়ে ২ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পর থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। পাইকারিতেই ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ২৫০ টাকা কেজি দরেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। আর কখনই দেশে এত বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন বাজার পর্যবেক্ষক ও ব্যবসায়ীরা।

চাহিদার চেয়ে আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের বাজারের এ অস্থিরতা বলে জানান আমদানিকারকরা। তাদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।

এ হিসাবে গত দেড় মাসে ভারত থেকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির কথা। কিন্তু ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বিকল্প উৎস থেকে এ সময়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ৩৯ হাজার টন। দেশী পেঁয়াজের সরবরাহও সেভাবে নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ভারত রফতানি বন্ধ করার পর গত এক মাসে (১২ অক্টোবর-১৩ নভেম্বর) বিভিন্ন দেশ থেকে ৬৮ হাজার ৫৭২ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) নিয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে চীন থেকে আমদানির অনুমতি নেয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৮০৪ টন, পাকিস্তান থেকে ২ হাজার ২০০, তুরস্ক থেকে ৮২০ ও উজবেকিস্তান থেকে ২০০ টন। গত বুধবার পর্যন্ত এসব দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পেঁয়াজ খালাস হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪২০ টন পেঁয়াজ।

এছাড়া গত দেড় মাসে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটি আমদানি হয়েছে ৩৩ হাজার টন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ হিসাবে গত দেড় মাসে দুই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার টন।

যদিও দেশে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে দৈনিক ছয় হাজার টনের মতো। স্থানীয় পেঁয়াজ উঠতে আরো প্রায় ১৫ দিন বাকি থাকায় চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হওয়ার কথা আমদানির মাধ্যমে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে পণ্যটির দাম।

দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনদিন ধরে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকা দরে। তবে চীন ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এর চেয়ে কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের ঊর্ধমুখি দামে আন্তর্জাতিক রেকর্ড বাংলাদেশ’র সংবাদটির তথ্য বণিক বার্তা সংবাদ মাধ্যম থেকে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই দেশে পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি কেন হয় জানেন?