এবার শুরুও হতে যাচ্ছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু, ২৫ হাজার টনের আবেদন পরেছে। ভারতের থেকে রপ্তানীর নিষেধাজ্ঞা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পেঁয়াজের রপ্তানী মূল্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি করলো ভারত। এরফলে দেশের বাজারে বড় প্রভাব পরতে পারে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রপ্তানিতে এই লাগাম টেনে দিয়েছে ভারত সরকার।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯) ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা থেকে বলা হচ্ছে, এখন থেকে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৫০ ডলারের কমে রপ্তানি করা যাবে না।



তবে গতবছর ফেব্রুয়ারির পর ভারতীয় পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যের ওই বাধ্যবাধকতা ছিল না। গত সপ্তাহেও দেশের আমদানিকারকরা প্রতি টন ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি করেছেন। এখন ভারত ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হবে।

এখন ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আসে বলে মন্তব্য ঢাকার পাইকারদের। এর সঙ্গে দেশের উৎপাদন মিলিয়ে ঘাটতি খুব বেশি হবে না। ফলে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি খুব বেশি হওয়ার কথা নয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি আর কলকাতার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ রুপিতে, যা সপ্তাহ দুই আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল।

আর ঢাকার বাজারে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা ইতোমধ্যে স্থলবন্দর কাস্টমসের হাতে পৌঁছেছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই নতুন দামে এলসি খুলতে হবে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের।

গতকালও প্রতিটন পেঁয়াজ ৩০০ ডলারে আনতে পেরেছেন হিলির পেঁয়াজ আমদানিকারকেরা। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আভাস দিচ্ছিলেন এই দাম দুই এক দিনের মধ্যে ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু ভারত সরকার বাড়িয়ে দিল তারচেয়েও অনেক বেশি।

এর ফলে সামনের সপ্তাহেই দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ভারত যে ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়েছে, তাতে খুচড়া বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। এতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকেই হয়।

পেঁয়াজের রপ্তানী মূল্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি করলো ভারত সংবাদটি তৈরিতে বিডিনিউজ২৪.কম এর থেকে তথ্য সহযোগিতা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গরুর মাংসের দাম কমানো সম্ভব, যা করতে হবে