নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রোজার শুরুতে বেগুনের দাম এক লাফে পৌঁছে যায় ১০০ টাকায়। মুখরোচক বেগুনি বাঙালির ইফতার আয়োজনের অন্যতম অনুসঙ্গ। ফলে রোজা এলে বেগুনের কদর প্রতিবছরই বেড়ে যায়। তবে, এবার রোজার আগেই শীত মৌসুমের নায়ক সবজি বেগুনের দাম কমে গেছে। সবজিটির ব্যাপক দরপতনে হতাশ চাষিরা।

বুধবার সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার নিউমার্কেট বাজার ঘুরে দেখা গেল খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বেগুন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করছেন। অবশ্য এর আগে ছিল ৫০ টাকা। কম দামে সবজি বিক্রিতে লোকসান গুনছেন তারা। চাষিদের বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়ার কারণে দাম কমেছে।

সকালে পাইকারিতে বেগুন বিক্রি করতে আসেন রাকিব উদ্দিন। বেগুন বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০ টাকা কেজি বেগুন বিক্রি করে কোন লাভ হয়না। বেগুনের পোকা দমন করা এখন মুশকিল। আগে কম ঔষুধে কাজ হয়ে যেত কিন্ত এখন হয় না। তারপরও দাম থাকলে ভালোই হয়। কিন্ত দাম তো নাই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২২-২৩ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় মোট সবজি আবাদ করা হয় ১৫ হাজার ৩১৮ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে বেগুন চাষ করা হয় ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। তবে এখন সেই পরিমাণ আরো বেড়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি বেগুন চাষ হয় পুঠিয়া উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে। ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৪১৬ মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

বিষমুক্ত সবজি চাষে ঝুঁকছেন ভোলার কৃষকরা

মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফল কৃষকরা

আলু ছেড়ে বিদেশী সবজি স্কোয়াশ চাষে লাভবান কৃষক

কুয়েতের মাটিতে সবজি চাষে সফল বাংলাদেশী প্রবাসীরা

পুঠিয়া ইউনিয়নের বেগুন চাষি জব্বার হোসেন বলেন, বেগুন চাষে খরচ বেড়ে গেছে। বৃষ্টিপাত নাই। নিয়মিত সেঁচ দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পোকার উপদ্রব কমবে না। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সব ধরনের সবজির দাম কম। ৫০ টাকা কেজির কম বেগুন বিক্রি করলে খুববেশি লাভ হবে না। এখন লোকসান দিয়ে বিক্রি করছি সব ধরনের সবজি।

এদিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা এবং ময়মনসিংহ থেকে বেগুন ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার তুলনায় রাজশাহী অঞ্চলে সবজির দাম কম। ট্রাকভর্তি বেগুন চলে যায় ঢাকার কাওরানবাজার, শান্তিনগর, ফার্মগেট বাজারে।

রাজশাহীর উপশহরের বাসিন্দা সুমন হোসেন বললেন, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম অনেক কম। ১০ টাকা কেজি পালং, বেগুন ১৫ থেকে ২০ টাকা দিলেই হয়। পটল ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, এ মৌসুমে বাজারে লম্বা ও গোল দুই ধরনের বেগুনই আছে। তবে দাম অনেক কম। বর্তমানে বাসাবাড়ির পাশাপাশি রেঁস্তোরা ও খাবারের দোকানেও প্রচুর বেগুন দরকার হয়। কালাইয়ের রুটির দোকানে বেশি লাগে বেগুন। দাম কম থাকায় চাষিরা লাভবান হতে পারছেন না।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ