অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত মসলাপণ্য আমদানি করা হয়। গরম মসলা আমদানির অনুমতি না থাকলেও পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও শুকনো মরিচ আমদানি হচ্ছে হরদম।

গত ৪ মাসে বন্দরটি দিয়ে ৮০ কোটি টাকার বেশি রসুন আমদানি হয়েছে বলে জানা গেছে। আমদানীকৃত এসব রসুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়।

এদিকে জেলার মসলা আড়তগুলোয় রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রসুনের দাম প্রকারভেদে কেজিতে প্রায় ৩০-৩৫ টাকা কম।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ টন। যার আমদানি মূল্য ৮০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের এই সময়ে এ বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের রসুন আমদানি হয়নি বলে জানান বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

এগ্রিকেয়ার২৪.কমের আরোও নিউজ পড়তে পারেন:

দাম বেড়েছে চাল পেঁয়াজ ‍রসুন ব্রয়লার মুরগির

ভারতীয় রসুনে বাজার সয়লাব, একলাফে কেজিতে বাড়লো ৬০ টাকা

চায়না রসুনের কেজি ১২০, দেশী মাত্র ৫০ টাকা

রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে রসুন চাষ

ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, অনুমোদিত সব ধরনের মসলা পণ্যের পাশাপাশি প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য হারে রসুন আমদানি করে তার প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস থেকে এখন পর্যন্ত রসুন আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহে ২৫ ট্রাক রসুন আমদানি হচ্ছে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, মসলা আমদানিতে বেশ ভালো পরিমাণ রাজস্ব আসে। কিন্তু এ বন্দরে সব ধরনের মসলা আমদানির অনুমোদন নেই। গত চার মাসে রসুন আমদানিতে ৪ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বৃহৎ মসলা আড়ত সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি পাইকারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গিয়েছে, সম্প্রতি রসুনের দাম স্থিতিশীল। গত এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানের দামে খুব বেশি ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়নি।

এ বাজারের মসলা আড়ত মেসার্স জুবায়ের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জহুরুল হক জানান, প্রকারভেদে প্রতি কেজি রসুন পাইকারিতে ৫০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক থেকে দেড় মাস আগেও দাম একই ছিল। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে। ওই সময় প্রতি কেজি রসুনের পাইকারি দাম ছিল ৯০-১০০ টাকা।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৫০০ টন রসুন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সদরসহ সাতটি উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে রসুন। ভারত থেকে ৪ মাসে ৮০ কোটি টাকার রসুন আমদানি সংবাদের তথ্য বণিক বার্তা থেকে নেওয়া হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ