
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মিনিকেট-নাজিরশাইল নামে ধান নেই, এ নামে চাল বিক্রি বন্ধে সরকার কঠোর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক কৃষি সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।
এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালে বাজার সয়লাব। ব্যবসায়ীরা মূলত মোটা চালকেই কেটে এ সব নামে বিক্রি করছে। ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছে। যা চলতে দেয়া ঠিক হবে না। সরকার এ বিষয়ে নজর রাখছে। এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। আগামীতে চালের বস্তায় জাতের নাম লিখে বিক্রি করতে হবে। সে লক্ষে কর্ম-পরিকল্পনা ঠিক করছে সরকার।
পরে ভিজিএফ এর চাল প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই চালের ৬০ ভাগ মানুষ খায় না, বিক্রি করে দেয়। বাজারে চালের প্যাকেটে সংশ্লিষ্ট ধানের জাতের নাম উল্লেখ করতে হবে। না করলে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
পড়তে পারেন: গত বছরের দামেই ধান-চাল কিনবে সরকার
এদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে মূলত চাল আমদানি হতো এতোদিন। কিন্তু এখন গম আমদানিও শুরু হয়েছে। অতিমাত্রায় চাল-গম আমদানির কারণে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্যনিরাপত্তায় ক্রমাগত ভারতের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে বাংলাদেশ।
ভারতের বাজারে সামান্যতম অস্থিরতা দেশে চালের বাজারকে মারাত্মক অস্থিতিশীল করে তোলার ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। দেশটিতে আবহাওয়াগত বিপত্তি বা অন্য যেকোনো কারণে চালের বাজারে সরবরাহ কমলে তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বর্তমান পরিস্থিতিতে গমের ক্ষেত্রেও একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়তে পারেন: ভারতে বাড়লো চালের দাম
গত কয়েক দশকে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বড় অগ্রগতি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যদিও প্রতি বছরই দেশে খাদ্যশস্যের আমদানি বাড়ছে। খাদ্যশস্যের মধ্যে এতদিন মূলত চালই আমদানি করা হতো।
পণ্যটি প্রধানত ভারত থেকেই আমদানি করা হয় বেশি। এখন গম আমদানিরও সিংহভাগ আসছে ভারত থেকে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ হলো রাষ্ট্রীয় সংস্থার খাদ্যশস্যের সাফল্য এখনো বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে পারেনি। সরকারি-বেসরকারি তথ্য বলছে, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এখন অনেকটাই ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছর ভারত থেকে ৩৪১ কোটি টাকার কিছু বেশি মূল্যের চাল আমদানি হয়েছিল দেশে। সেখান থেকে প্রায় ২৪ গুণ বেড়ে গত অর্থবছরে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকার। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই চাল আমদানিতে রেকর্ড পরিমাণ এলসি খোলার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায়ও এসেছে।
পড়তে পারেন: মজুদ থেকে গম বিক্রি করবে চীন
শুধু চাল নয়, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে গমের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশ এখন ভারতে উৎপাদিত গমের শীর্ষ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের (ভারতে অর্থবছরের হিসাবায়ন হয় এপ্রিল-মার্চ সময়সীমায়) প্রথম নয় মাসে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) দেশটি থেকে গম রফতানি হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৮ লাখ ডলারের। এর মধ্যে ৮৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের গম এসেছে বাংলাদেশে। সে হিসেবে এ নয় মাসে ভারতের মোট গম রফতানির ৫৮ শতাংশেরও বেশি এসেছে বাংলাদেশে।
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ আমদানির পরও দেশের খাদ্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রধান খাদ্যশস্য চালের বাজারে এখনো বেশ অস্থিরতা রয়েছে। এমন অবস্থায় প্রয়োজনে আরো চাল আমদানি করা হবে বলে বক্তব্য দিয়ে চলেছেন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। ব্যবসায়ীরা পণ্যটি আমদানির জন্য একের পর এক এলসি খোলার আবেদন করে চলেছেন।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























