
মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে রাজশাহীর কৃষি খাতে ক্ষতি মোকাবেলায় ২১ টি ব্যাংক ৫১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে। সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে কৃষকদের জন্য এই প্রণোদনার অর্থ বিতরণ রাজশাহীসহ সারাদেশে অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত (সেপ্টেম্বর ৩০) পর্যন্ত নতুন গ্রাহকের মাঝে ঋণ বিতরণের পরিমান ৩৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক যারা ইতোমধ্যে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেছিল এরকম গ্রাহকের মাঝে বিতরণকৃত ঋণের পরিমান ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৫১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
কৃষি প্রণোদনার ঘোষিত পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিতরণে এপ্রিল মাসে ৪৩টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে সবকিছু গুছিয়ে আনতে সময় লাগার কারণে ঋণ বিতরণে বিলম্ব হয়।এ নিয়ে উদ্ধিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত ঋণ বিতরণে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিল সে সময়। তারপর ঋণ বিতরণের হার বাড়তে শুরু করে। কৃষি বাঁচাতে প্রণোদনার এই অর্থ বিতরণে কয়েকটি ব্যাংকের গভর্নরকে কেন্দ্রিয় ব্যাংক চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে জানা গেছে।
তবে রাজশাহীর মোট ৪২টি ব্যাংকের মধ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক আলাদাভাবে ঋণ বিতরণ করবে। এছাড়া ৪১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৯ টি ব্যাংক এখন পর্যন্ত এক টাকাও বিতরণ করেনি। বাঁকি ব্যাংকগুলো (২১টি) এই পাঁচ মাসে ৫১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই বিতরণকৃত ঋণের পরিমান ৩ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার টাকা।
জনতা ব্যাংকের বিতরণকৃত চলতি মূলধন ঋণের সমন্বিত মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মে থেকে ৩০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত বিআরডিবি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, প্রাইম, স্টান্ডার্ড, সাউথইস্ট, এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।
এসব (জেলায় প্রায় ১৯ টি) ব্যাংকের শাখা উপজেলা পর্যায়ে না থাকায় তারা ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। শহরকেন্দ্রিক কৃষি ঋণের গ্রাহক পাচ্ছেন না তারা। তবে এ সমস্যা সমাধানে ঋণ বিতরণের জন্য তাদের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেইসাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দ্রুত ঋণ বিতরণের জন্য তাগিদ দিয়েছে জনতা ব্যাংক।
শতাংশ অনুযায়ী রাজশাহী জেলায় মোট ঋণ বিতরণের হার ৭১ভাগ। কিছু কিছু ব্যাংক বরাদ্দকৃত অর্থের চাইতে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মোট বরাদ্দ ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা হলেও ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ২৯ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যা শতকরা হার দাঁড়ায় ১০৩ ভাগ। এছাড়া ১১৮ভাগ রুপালি ব্যাংক প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে। শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি এবং ব্রাক ব্যাংক।
প্রণোদনা ঋণ বিতরণে শীর্ষে রাকাব। প্রণোদনা প্যাকেজের (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাকাব ৭ হাজার ২৯ জন কৃষকের মাঝে ৩২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।
জানা যায়, প্রণোদনার এই অর্থ বিতরণে কাল বিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ উদ্ধিগ্ন। কেন বিলম্ব বা ঋণ বিতরণ কেন হচ্ছে না এবিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখাও চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তদারকি কমিটি গঠন, শাখা পর্যায়ে ফোন করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগও গ্রহণ করেছে ব্যাংক সেক্টরের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
করোনা মহামারী শুরু হলে কৃষি খাতের জন্য ১২ এপ্রিল ডেইরি ফার্ম, পোলট্রি ফার্ম, মৌসুমি ফল-ফুল ও মৎস্য খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তহবিল থেকে সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন কৃষক। শর্ত অনুযায়ী এ ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থেকে ক্লেইম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা দিয়ে দেবে।
জনতা ব্যাংক রাজশাহী এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে জানান, রাজশাহীর কৃষি খাতে ক্ষতি মোকাবেলায় ২১ টি ব্যাংক ৫১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে। এ প্যাকেজের আওতায় মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান ৭৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এর আগে কৃষি বাঁচাতে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি প্রণোদনার অর্থের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতেও সবসময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
এখনো যেসব ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেনি। সে প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরকে চাপ দিবো কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দিতে। তাছাড়া আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তদারকি করতে শুরু করেছেন। আশা করছি অচিরেই এটির সমাধান হয়ে যাবে।’
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























